মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: বস্তু হতে আগত উদ্দীপনা এলোমেলো বা বিশৃঙ্খলভাবে আমাদের মস্তিষ্কে পৌছায়। মস্তিষ্ক সেগুলোকে সুশৃঙ্খল এবং একীকরণ করে বস্তুটি প্রত্যক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। এটি প্রত্যক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। দৃশ্যকল্প-২: আমাদের প্রত্যক্ষণ ইন্দ্রিয় নির্ভর অন্য একটি মানসিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। এই মানসিক প্রক্রিয়াটিকে প্রত্যক্ষণের আবশ্যিক পূর্বশর্ত বলা হয় ।

  1. ক)

    মনোযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্যক্ষণকে শিক্ষার্জিত প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত প্রত্যক্ষণের বৈশিষ্ট্যটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত মানসিক প্রক্রিয়াটি এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোযোগ হলো বহু উদ্দীপকের মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপককে চেতনার কেন্দ্রে স্থান দেওয়ার নির্বাচনমুখী মানসিক প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রত্যক্ষণ কেবল সংবেদন গ্রহণ নয়, বরং সংবেদনকে ব্যাখ্যা ও অর্থপূর্ণ করে তোলার প্রক্রিয়া। জন্মের পর পরিবেশের সাথে অভিযোজন, অতীত অভিজ্ঞতা এবং অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বস্তু ও ঘটনার অর্থ বুঝতে শিখি। অভিজ্ঞতার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রত্যক্ষণেও পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসে। যেহেতু প্রত্যক্ষণে কোনো উদ্দীপকের অর্থ অনুধাবন মূলত অতীত শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে, তাই প্রত্যক্ষণকে একটি শিক্ষার্জিত প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ প্রত্যক্ষণের 'প্রত্যক্ষণীয় সংগঠন' (Perceptual Organization) বা 'সুসংবদ্ধকরণ' বৈশিষ্ট্যটি বর্ণিত হয়েছে।

    গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাহ্যিক পরিবেশ থেকে আগত বিভিন্ন উদ্দীপনা সংবেদী অঙ্গের মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। কিন্তু আমরা সেগুলোকে বিশৃঙ্খলভাবে দেখি না; বরং মস্তিষ্ক সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতি মেনে একটি সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সামগ্রিক কাঠামো হিসেবে বিন্যস্ত করে তোলে।

    প্রত্যক্ষণীয় সংগঠনের প্রধান নীতিগুলো হলো—
    ১. নৈকট্য (Proximity): কাছাকাছি অবস্থিত উদ্দীপকগুলোকে দলবদ্ধভাবে প্রত্যক্ষণ করা।
    ২. সাদৃশ্য (Similarity): গঠন বা আকৃতিতে মিল থাকা উদ্দীপকগুলোকে একত্রে দেখা।
    ৩. অবিচ্ছিন্নতা বা ধারাবাহিকতা (Continuity): উদ্দীপকগুলোকে একটি সরল বা বক্ররেখায় চলমান হিসেবে দেখা।
    ৪. সমাপ্তি (Closure): অসম্পূর্ণ উদ্দীপকের ফাঁকগুলো পূরণ করে তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া।

    মস্তিষ্কের এই সুসংবদ্ধকরণের প্রক্রিয়ার ফলেই আমরা এলোমেলো উদ্দীপনা থেকে পরিবেশের পূর্ণাঙ্গ অর্থ ও রূপ প্রত্যক্ষণ করতে পারি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত প্রত্যক্ষণের আবশ্যিক পূর্বশর্তমূলক মানসিক প্রক্রিয়াটি হলো 'সংবেদন' (Sensation)।

    বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো উদ্দীপক দ্বারা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো (চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক) উদ্দীপিত হলে মস্তিষ্কে যে প্রাথমিক চেতনা বা অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাকে সংবেদন বলে। সংবেদন ছাড়া প্রত্যক্ষণ সম্ভব নয়; সংবেদনের অর্থপূর্ণ রূপই হলো প্রত্যক্ষণ।

    সংবেদনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. তীব্রতা (Intensity): সংবেদনের মাত্রা বা জোর উদ্দীপকের শক্তির ওপর নির্ভর করে। মৃদু আলো কম তীব্র সংবেদন তৈরি করে এবং প্রখর আলো তীব্র সংবেদন সৃষ্টি করে।
    ২. গুণ বা জাতি (Quality): সংবেদন এক ইন্দ্রিয় থেকে অন্য ইন্দ্রিয়ে ভিন্ন প্রকৃতির হয়। যেমন—শ্রবণ সংবেদন ও দর্শন সংবেদনের গুণগত বৈশিষ্ট্য আলাদা।
    ৩. স্থায়িত্বকাল (Duration): উদ্দীপকটি কতক্ষণ কার্যকর ছিল তার ওপর সংবেদনের স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
    ৪. বিস্তার (Extensity): উদ্দীপক ইন্দ্রিয়ের কতটা স্থান জুড়ে কার্যকর হয়েছে তার ওপর এর বিস্তার নির্ভর করে। যেমন—হাতের একটি বিন্দু স্পর্শ করা বনাম পুরো হাত স্পর্শ করার বিস্তার ভিন্ন।
    ৫. স্পষ্টতা (Clarity): সংবেদনটি কতটুকু পরিষ্কার বা সুস্পষ্টভাবে অনুভবে আসে তা মনোযোগ ও পরিবেশগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

    পরিশেষে, সংবেদন হলো প্রত্যক্ষণের মৌলিক উপাদান এবং সংবেদনের গুণাবলির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী অর্থপূর্ণ প্রত্যক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন