মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

শফিক বলল, আমাদের দেহের দুটি কিডনীর ওপরে একই প্রকারের দুটি অনালী গ্রন্থি অবস্থিত। অন্যদিকে, রফিক বলল, অপর একটি অনালী- গ্রন্থি আমাদের মস্তিষ্কের তলদেশে অবস্থিত। এটি আকারে খুবই ছোট কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    মস্তিষ্কের উর্ধ্বাংশের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে অনালী গ্রন্থি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    শফিক বর্ণিত গ্রন্থিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রফিক বর্ণিত গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোন এবং এর কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মস্তিষ্কের ঊর্ধ্বাংশের নাম গুরুমস্তিষ্ক বা সেরেব্রাম (Cerebrum)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব গ্রন্থির কোনো নির্দিষ্ট নালী বা সংবহন পথ থাকে না এবং যাদের নিঃসৃত রস (হরমোন) সরাসরি রক্তে মিশে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়, তাদের অন্তঃক্ষরা বা অনালী গ্রন্থি (Ductless gland) বলা হয়। নালী অনুপস্থিত থাকার কারণেই এদের অনালী গ্রন্থি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শফিকের বর্ণিত গ্রন্থিটি হলো অ্যাড্রেনাল বা এড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland)।

    আমাদের দেহের দুটি কিডনি বা বৃক্কের উপরিভাগে টুপির মতো এ গ্রন্থি দুটি অবস্থিত। প্রতিটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির প্রধানত দুটি অংশ থাকে—
    ১. কর্টেক্স (Cortex): এটি গ্রন্থির বাইরের অংশ। এখান থেকে কর্টিসোন, অ্যালডোস্টেরন প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শর্করা ও খনিজ লবণের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
    ২. মেডুলা (Medulla): এটি গ্রন্থির ভেতরের অংশ। এখান থেকে অ্যাড্রেনালিন (এপিনেফ্রিন) এবং নর-অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

    আবেগকালীন বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে (যেমন—ভয়, ক্রোধ বা উত্তেজনায়) মেডুলা থেকে প্রচুর পরিমাণে অ্যাড্রেনালিন নিঃসৃত হয়ে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেহকে জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত করে। তাই এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রফিক বর্ণিত গ্রন্থিটি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), যা মস্তিষ্কের তলদেশে অবস্থিত এবং মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' (প্রভু গ্রন্থি) হিসেবে পরিচিত।

    পিটুইটারি গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোন ও তাদের কার্যাবলি নিম্নরূপ:
    ১. সম্মুখ পিটুইটারি নিঃসৃত হরমোন:

    • বৃদ্ধি হরমোন (STH বা Somatotropic Hormone): দেহের অস্থি ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। শৈশবে এর ক্ষরণ কম হলে বামনত্ব এবং অতিরিক্ত ক্ষরণে দানবত্ব রোগ হয়।
    • থাইরোট্রপিক হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
    • অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অংশের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
    • গোনাডোট্রপিক হরমোন (FSH, LH): যৌন গ্রন্থির বিকাশ ও প্রজনন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
    • প্রোল্যাকটিন: মাতৃদেহে দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।

    ২. মধ্য পিটুইটারি নিঃসৃত হরমোন:

    • মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন (MSH): ত্বকের মেলানিন কণার বিন্যাস ও বর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৩. পশ্চাৎ পিটুইটারি নিঃসৃত হরমোন:

    • অক্সিটোসিন: সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন বাড়ায় এবং দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে।
    • ভ্যাসোপ্রেসিন (ADH): রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্কে পানির পুনঃশোষণ ঘটায়।

    পিটুইটারি গ্রন্থি অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে দেহের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন