কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

রতন ফল চাষের উপর একটি প্রতিবেদন দেখে পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এ ব্যাপারে তিনি কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে কর্মকর্তা তাকে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বলে দেন। কর্মকর্তা তাকে বলেন, জোড় কলম ছাড়াও অপর একটি অঙ্গজ উপায়ে পেয়ারার চারা উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে পেন্সিলের মতো মোটা সুস্থ সবল ডাল ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তা রতনকে আরও বলেন, পেয়ারার একটি মারাত্মক রোগ রয়েছে, যে রোগের কারণে ফলের গায়ে ছোট কালো দাগ পড়ে এবং ফল ফেটে যায় ও পচে যায়।

  1. ক)

    ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ একটি ফলের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে কমলা চাষ লাভজনক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অপর অঙ্গজ উপায়ে পেয়ারার বংশবিস্তার পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পেয়ারার রোগ দমনে করণীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ একটি ফল হলো আমলকী (অথবা পেয়ারা/লেবু)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে কমলা চাষ অত্যন্ত লাভজনক, কারণ:
    ১. বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পাহাড়ি বা উঁচু এলাকার (যেমন- সিলেট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের) মাটি কমলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
    ২. বাজারে কমলার ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চমূল্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানি নির্ভরতা কমে যায় এবং কৃষকরা অল্প পুঁজিতে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন। ফলে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি একটি লাভজনক ফসল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জোড় কলম ছাড়া পেন্সিলের মতো মোটা সুস্থ-সবল ডাল ব্যবহার করে অপর অঙ্গজ বংশবিস্তারের পদ্ধতিটি হলো 'গুটি কলম' (Air Layering বা মারগটিং)।

    পদ্ধতিটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ডাল নির্বাচন: নির্বাচিত পেয়ারা গাছের ১-২ বছর বয়সী, সুস্থ-সবল এবং পেন্সিলের মতো মোটা একটি ডাল বেছে নেওয়া হয়।
    ২. বাকল অপসারণ: ডালের গিঁটের নিচে প্রায় ৩-৪ সেমি (১-১.৫ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যে চারদিকের বাকল বা ছাল গোল করে ধারালো ছুরি দিয়ে তুলে ফেলা হয় এবং ভেতরের সবুজ আবরণ চেঁছে পরিষ্কার করা হয়।
    ৩. মাধ্যম প্রয়োগ: দোআঁশ মাটি ও পচা গোবরের (৩:১ বা সমান অনুপাতে) তৈরি ভেজা মাটির মিশ্রণ বাকলহীন স্থানে চারদিকে ভালোভাবে পেঁচিয়ে একটি গুটি তৈরি করা হয়।
    ৪. পলিথিন দিয়ে বাঁধা: গুটিটি পলিথিন শিট দিয়ে শক্ত করে মুড়ে উভয় প্রান্ত সুতলি দিয়ে এমনভাবে বেঁধে দেওয়া হয় যাতে ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং বাইরের পানি প্রবেশ করতে না পারে।
    ৫. চারা পৃথকীকরণ: ২-৩ মাসের মধ্যে প্রচুর শিকড় গজালে গুটির নিচের অংশ কেটে মাতৃগাছ থেকে আলাদা করে টবে বা ছায়াযুক্ত স্থানে রোপণ করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ফলের গায়ে ছোট কালো দাগ পড়া এবং ফল ফেটে ও পচে যাওয়া লক্ষণটি পেয়ারার মারাত্মক 'অ্যানথ্রাকনোজ' (Anthracnose) রোগকে নির্দেশ করে। এটি কোলেটোট্রিকাম (Colletotrichum gloeosporioides) নামক ছত্রাকের আক্রমণে ঘটে।

    এই রোগ দমনে রতনের করণীয় পদক্ষেপগুলো নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কৃষিতাত্ত্বিক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

    • বাগান সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
    • আক্রান্ত পাতা, ফল ও ডালপালা ছাঁটাই করে পুড়িয়ে বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।
    • সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত সঠিক সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    ২. রোগমুক্ত চারা ও জাত নির্বাচন:

    • রোগমুক্ত সুস্থ চারা রোপণ করতে হবে।
    • অ্যানথ্রাকনোজ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত যেমন— কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২ ইত্যাদি চাষ করা যেতে পারে।

    ৩. রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা:

    • ফুল আসার পর ফল গুটি অবস্থায় এবং পরবর্তীতে নিয়মিত বিরতিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
    • ফল ধরার পর কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন- কুপ্রাভিট) অথবা মেনকোজেব (যেমন- ডায়থেন এম-৪৫) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।
    • এছাড়া কার্বেনডাজিম (যেমন- অটোস্টিন বা নোইন) ১ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
    • ফল সংগ্রহের পূর্বে ব্যাগিং (ফল পলিথিনে মোড়ানো) পদ্ধতি অবলম্বন করলে ছত্রাকের আক্রমণ অনেকাংশেই প্রতিহত করা যায়।

    সুতরাং, উল্লিখিত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রতন পেয়ারার অ্যানথ্রাকনোজ রোগ সফলভাবে দমন করতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন