মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মনোবিজ্ঞান কোন ধরনের বিজ্ঞান?

    (1)
  2. খ)

    পরীক্ষণে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত 'B' চিহ্নিত অংশটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত 'C' ও 'D' এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক বা ইতিবাচক বিজ্ঞান (Positive Science/Behavioral Science)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরীক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো নিরপেক্ষ ও যথাযথভাবে অনির্ভরশীল চলের প্রভাব নির্ভরশীল চলের ওপর লক্ষ্য করা। যদি পরীক্ষণ পরিস্থিতিতে বাহ্যিক বা মধ্যবর্তী অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত চল প্রভাব ফেলে, তবে সঠিক কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। তাই ফলাফলের নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চলের প্রভাব দূর করার জন্য পরীক্ষণে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর দুটি শাখা নির্দেশ করা হয়েছে, যার একটি 'আচরণ' এবং অপরটি 'B'। সুতরাং 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো 'মানসিক প্রক্রিয়া' (Mental Processes)।

    মানসিক প্রক্রিয়া হলো এমন সব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া বা অভিজ্ঞতা যা বাইরে থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায় না, তবে আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় বা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে অনুমান ও পরিমাপ করা যায়। যেমন— চিন্তন, স্মৃতি, মনোযোগ, প্রত্যক্ষণ, বুদ্ধি, আবেগ ও প্রেষণা ইত্যাদি মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। মানুষ যখন কোনো সমস্যা সমাধানের কথা ভাবে বা অতীত ঘটনা স্মরণ করে, তখন তা মনের অভ্যন্তরেই ঘটে। মনোবিজ্ঞান কেবল বাহ্যিক আচরণ নিয়েই আলোচনা করে না, আচরণের পেছনে সক্রিয় অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়াগুলোকেও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আচরণের প্রকারভেদ দেখানো হয়েছে। আচরণকে প্রধানত তিনটি জোড়ায় ভাগ করা হয়: (১) সামগ্রিক ও খণ্ডবিশেষ আচরণ, (২) ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ, এবং (৩) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ। উদ্দীপকে তৃতীয়টি উল্লেখিত থাকায় 'C' ও 'D' হলো 'সামগ্রিক ও খণ্ডবিশেষ আচরণ' এবং 'ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ'।

    এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. সামগ্রিক ও খণ্ডবিশেষ আচরণ:

    • সামগ্রিক আচরণ (Molar Behavior): জীব যখন কোনো পরিস্থিতিতে একক কোনো অঙ্গের প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সমগ্র সত্ত্বা দিয়ে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তাকে সামগ্রিক আচরণ বলে। যেমন— ক্রিকেট খেলা, গাড়ি চালানো ইত্যাদি।
    • খণ্ডবিশেষ আচরণ (Molecular Behavior): জীবদেহের কোনো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ বা পেশির ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়াকে খণ্ডবিশেষ আচরণ বলে। যেমন— চোখের পলক ফেলা, আঙুল নাড়ানো ইত্যাদি। সামগ্রিক আচরণের সমন্বিত রূপই হলো খণ্ডবিশেষ আচরণের সমষ্টি।

    ২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ:

    • ঐচ্ছিক আচরণ (Voluntary Behavior): যেসব আচরণ ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছা, নিয়ন্ত্রণ ও চিন্তাভাবনার ওপর নির্ভর করে সম্পাদিত হয়, সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন— বই পড়া, গান গাওয়া বা হেঁটে যাওয়া।
    • অনৈচ্ছিক আচরণ (Involuntary Behavior): যেসব আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার অধীন নয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো উদ্দীপকের উপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে ঘটে, সেগুলোকে অনৈচ্ছিক আচরণ বা প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন— আলো পড়লে চোখের তারা সংকুচিত হওয়া, গরম কিছুতে হাত লাগলে হঠাৎ হাত সরিয়ে নেওয়া।

    পরিশেষে, মনোবিজ্ঞানে মানুষের সামগ্রিক ও খণ্ডবিশেষ কিংবা ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণের প্রক্রিয়াগত ভিন্নতা থাকলেও মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ক্রিয়াশীলতা অনুধাবনে এগুলোর সম্মিলিত গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন