মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ঃদৃশ্যকল্প-২ঃ

  1. ক)

    বিজ্ঞান কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কার্যকরী সংজ্ঞার প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত 'C' কে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এর 'A' ও 'B' চিহ্নিত অংশগুলো মনোবিজ্ঞানের কোন শাখার সাথে সম্পর্কিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও ভৌত জগৎ সম্পর্কে সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও পর্যবেক্ষণ-পরীক্ষণভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোনো প্রত্যয় বা চলকে সুস্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য করতে কার্যকরী সংজ্ঞা (Operational Definition) প্রয়োজন হয়।

    বিজ্ঞান সবসময় বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কোনো গবেষণায় ব্যবহৃত বিমূর্ত বা জটিল ধারণাগুলোকে (যেমন: বুদ্ধি, প্রেষণা, হতাশা ইত্যাদি) সুনির্দিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করার জন্য গবেষককে সেগুলোর স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য রূপ বা কার্যভিত্তিক সংজ্ঞা দিতে হয়। এর ফলে যেকোনো গবেষক একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি (Replication) করে ফলাফল যাচাই করতে পারেন এবং বিভ্রান্তি দূর হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ মনোবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের তিনটি যুগের মধ্যে 'C' চিহ্নিত অংশটি মনোবিজ্ঞানের 'আধুনিক যুগ'-কে নির্দেশ করে।

    মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসকে সাধারণত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়: প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ। প্রাচীন যুগে এরিস্টটল, প্লেটো প্রমুখ দার্শনিকদের চিন্তাধারায় আত্মা ও মন সম্পর্কিত আলোচনায় মনোবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। মধ্যযুগে তা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ধারণার মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়।

    কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মনোবিজ্ঞান দর্শনশাস্ত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা আধুনিক যুগের সূচনা করে। ১৮৭৯ সালে জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী উইলহেম ভুন্ট (Wilhelm Wundt) প্রথম মনোবিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমেই আধুনিক বৈজ্ঞানিক মনোবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। আধুনিক যুগে আচরণবাদ (জে. বি. ওয়াটসন), সমগ্রতাবাদ (গেস্টাল্টবাদ), মনঃসমীক্ষণবাদ (সিগমুন্ড ফ্রয়েড) এবং মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটে। বর্তমানে মনোবিজ্ঞান আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার একটি সুসংহত এবং গবেষণানির্ভর বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং, 'C' হলো মনোবিজ্ঞানের বিজ্ঞানভিত্তিক রূপ রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় তথা আধুনিক যুগ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর 'A' অংশটি 'কাউন্সেলিং বা পরামর্শ মনোবিজ্ঞান' (Counseling Psychology) এবং 'B' অংশটি 'শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞান' (Industrial and Organizational Psychology)-এর সাথে সম্পর্কিত।

    নিচে এদের যৌক্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. 'A' চিহ্নিত অংশের বিশ্লেষণ: উদ্দীপকের 'A' অংশে রয়েছে—"সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক উন্নয়ন ও আচরণ পরিবর্তনে সহায়তা"। এই কাজগুলো মূলত কাউন্সেলিং বা পরামর্শ মনোবিজ্ঞানের মূল দায়িত্ব। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ছোট-বড় মানসিক ও আবেগীয় সমস্যা, শিক্ষাগত বা পেশাগত দ্বন্দ্ব, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক কৌশল প্রয়োগ করেন। এরা ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনা বিকশিত করে জীবনের সাথে অভিযোজন ও ইতিবাচক আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করেন।

    ২. 'B' চিহ্নিত অংশের বিশ্লেষণ: উদ্দীপকের 'B' অংশে রয়েছে—"কর্মচারী নির্বাচন, কর্ম এবং কর্ম বিশ্লেষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি"। এটি সরাসরি শিল্প ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে। এই শাখায় কোনো শিল্প বা কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, সঠিক কর্মমূল্যায়ন ও কর্মবিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, কর্মীদের সন্তুষ্টি বিধান এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোবৈজ্ঞানিক নীতি প্রয়োগ করাই এ শাখার মূল উদ্দেশ্য।

    পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনের মানসিক শান্তি ও সম্পর্ক উন্নয়নে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান (A) এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের পরিচালনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিল্প মনোবিজ্ঞান (B) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন