মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: সুরুজ মিঞা একজন দিনমজুর। দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটাতেই তাঁকে ভীষণ পরিশ্রম করতে হয়। অন্যদিকে নেহাল পরীক্ষায় ১ম হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।দৃশ্যকল্প-২: ফরিদ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ায় অংশ নিতে ব্যর্থ হয়। এতে সে মনে কষ্ট পায়। তার রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং গলা শুকিয়ে যায়।
- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
যুথচারিতা একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ ফরিদের ক্ষেত্রে আবেগের উল্লেখিত দৈহিক পরিবর্তনগুলো ছাড়া তিনটি পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ সুরুজ ও নেহালের অনুভূত প্রেষণার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অভ্যন্তরীণ বা মানসিক চালিকাশক্তি মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকে চালিত করে এবং আচরণকে সক্রিয় ও গতিশীল রাখে, তাকে প্রেষণা (Motivation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে একা বসবাস করতে পারে না; দলবদ্ধভাবে বা অন্যদের সাথে মিলেমিশে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই হলো যুথচারিতা (Gregariousness)। সমাজে টিকে থাকা, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভালোবাসার চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ সংঘবদ্ধ হয়। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হলে মানুষ নিঃসঙ্গতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এ জন্য যুথচারিতাকে মানবজীবনের অন্যতম শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ ফরিদ বার্ষিক ক্রীড়ায় অংশ নিতে না পেরে হতাশ ও ব্যথিত হয়, যার ফলে তার রক্তচাপ বৃদ্ধি ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত এই দুটি পরিবর্তন ছাড়াও আবেগের সময় দেহে আরও কিছু পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্য থেকে তিনটি পরিবর্তন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. হৃৎস্পন্দনের পরিবর্তন: তীব্র আবেগের সময় স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সমবেদী অংশের ক্রিয়ায় হৃৎস্পন্দনের গতি অত্যন্ত দ্রুত হয়, যার ফলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
২. শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি: আবেগের সময় দেহে অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং গভীরতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৩. ঘর্মগ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি: আবেগের তীব্রতায় ঘর্মগ্রন্থিগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম নিঃসৃত হতে থাকে এবং ত্বক শীতল হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ সুরুজ মিঞা ও নেহালের আচরণে দুই ধরনের প্রেষণা পরিলক্ষিত হয়েছে—সুরুজের ক্ষেত্রে জৈবিক প্রেষণা এবং নেহালের ক্ষেত্রে সামাজিক বা ব্যক্তিগত প্রেষণা। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রেষণার প্রকৃতি: সুরুজ মিঞা দিনমজুর এবং দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। ক্ষুধা একটি অন্যতম প্রধান শারীরিক বা জৈবিক প্রেষণা, যা জন্মগত ও শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষার সাথে জড়িত। অন্যদিকে, নেহাল পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। এটি কৃতিত্ব অর্জনের প্রেষণা (Need for Achievement), যা একটি অর্জিত বা সামাজিক প্রেষণা।
২. আবশ্যিকতা বা অপরিহার্যতা: ক্ষুধা নিবৃত্ত না হলে ব্যক্তির বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে; তাই সুরুজ মিঞার প্রেষণাটি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সরাসরি জরুরি। বিপরীতপক্ষে, পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার প্রেষণা সমাজে সম্মান, স্বীকৃতি ও আত্মউন্নয়নের সাথে যুক্ত; এটি পূরণ না হলে জীবন বিপন্ন হয় না, তবে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৩. আচরণগত প্রকাশ: সুরুজ মিঞার ক্ষুধার তাড়না দৈহিক অভাববোধ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হয় এবং খাদ্যের সন্ধান করলেই সাময়িকভাবে নিবৃত্ত হয়। অপরপক্ষে, নেহালের প্রেষণাটি সামাজিক পরিবেশ, পারিবারিক শিক্ষা ও আত্মাকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী ও লক্ষ্যভিত্তিক আচরণ বজায় রাখে।সুতরাং দেখা যায়, সুরুজের অনুভূত প্রেষণা শারীরবৃত্তীয় মৌলিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যযুক্ত, আর নেহালের অনুভূত প্রেষণা সামাজিক মর্যাদা ও আত্মপ্রতিষ্ঠা অর্জনের লক্ষ্যযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও