কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
গোটলিং কী?
- খ)(2)
ছাগলকে গরিবের গাভি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র-১ এর প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর মধ্যে কোন প্রাণীটি পালন অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক? তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক বছর থেকে দেড় বছর বয়সী বাড়ন্ত বা অপরিণত ছাগলকে গোটলিং (Goatling) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছাগলকে 'গরিবের গাভি' বলা হয় কারণ এটি পালনে খুব কম পুঁজি, অল্প স্থান এবং সামান্য খাদ্য ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়, কিন্তু এটি থেকে নিয়মিত দুধ ও মাংস পাওয়া যায়।
দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকেরা কোনো ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনা ছাড়াই বাড়ির আশপাশের সাধারণ লতাপাতা খাইয়ে ছাগল পালন করতে পারেন। বিপদের সময় ছাগল দ্রুত বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায় এবং এটি গরিব পরিবারের পুষ্টি ও আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এজন্য মহাত্মা গান্ধী ছাগলকে 'গরিবের গাভি' বলে অভিহিত করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ এর প্রাণীটি হলো বাংলাদেশের নিজস্ব জাত 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' ছাগল।
নিচে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. দৈহিক গঠন: এর শরীর তুলনামূলকভাবে ছোট, আঁটসাঁট ও পাগুলো খাটো হয়। পিঠ সোজা এবং কান ছোট ও খাড়া থাকে।
২. গায়ের রং: এদের গায়ের রং সাধারণত কালো হয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাদামি, সাদা বা ধূসর রঙেরও দেখা যায়। লোম মসৃণ ও চকচকে হয়।
৩. শিং: এদের শিং সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়।
৪. প্রজনন ক্ষমতা: এরা দ্রুত বয়ঃপ্রাপ্ত হয় এবং বছরে দুইবার বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিবারে সাধারণত ২ থেকে ৪টি বাচ্চা দেয়।
৫. মাংস ও চামড়া: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এর চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নতমানের চামড়া হিসেবে সুপরিচিত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' ছাগল এবং চিত্র-২ এ 'যমুনাপারি' ছাগল নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে চিত্র-১ এর ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক।
নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও অভিযোজন: ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতটি আমাদের দেশীয় আবহাওয়ার সাথে সম্পূর্ণ উপযোগী। ফলে এদের রোগবালাই কম হয় এবং মৃত্যুহার অনেক কম। অন্যদিকে যমুনাপারি জাতটি মূলত ভারতের এবং আমাদের দেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজেই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়।
২. উচ্চ প্রজনন ক্ষমতা: ব্ল্যাক বেঙ্গল বছরে দুইবার বাচ্চা প্রসব করে এবং প্রতিবারে ২ থেকে ৪টি বাচ্চা দেয়। অন্যদিকে যমুনাপারি বছরে একবার এবং সাধারণত ১-২টি বাচ্চা প্রসব করে। ফলে স্বল্প সময়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল থেকে বংশবৃদ্ধির হার অনেক বেশি।
৩. স্বল্প খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা খরচ: ব্ল্যাক বেঙ্গল দেশীয় সাধারণ ঘাস, গাছের পাতা ও উচ্ছিষ্টাংশ খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের বাসস্থান বা খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যয় হয় না, যা দরিদ্র বা প্রান্তিক খামারিদের জন্য সুবিধাজনক।
৪. চামড়া ও মাংসের আন্তর্জাতিক মান: ব্ল্যাক বেঙ্গলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এর নরম, মসৃণ চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে 'কুষ্টিয়া গ্রেড' হিসেবে খ্যাত ও অত্যন্ত মূল্যবান। যমুনাপারি প্রধানত দুধ ও আকারের জন্য পরিচিত হলেও আমাদের দেশে মাংসের চাহিদা অনুযায়ী ব্ল্যাক বেঙ্গল বেশি জনপ্রিয়।অতএব, সামগ্রিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য চিত্র-১ এর প্রাণীটি অর্থাৎ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক বেশি লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও