গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রাহাত সাহেব বাড়ি তৈরির জন্য ব্যাংক থেকে শর্ত সাপেক্ষে অর্থ গ্রহণ করেন।
দৃশ্যকল্প-২: সুরাইয়া বেগম অবসর যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি অর্ধেক টাকা দিয়ে খাবারের দোকান দেন। বাকি টাকা দিয়ে এমন একটি পদ্ধতি বেছে নেন যা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে তিনি পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন।
- ক)(1)
আজীবন বিমা কাকে বলে?
- খ)(2)
'সংকট উত্তরণে সঞ্চয় ভূমিকা রাখে'— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ রাহাত সাহেবের অর্থ গ্রহণ বিষয়টি কী নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ সুমাইয়া বেগমের কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের সকল ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে কি? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জীবন বিমায় বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদান করতে হয় এবং বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পরই কেবল তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে বিমাকৃত অর্থ পরিশোধ করা হয়, তাকে আজীবন বিমা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের জীবনে যেকোনো সময় হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সংকট বা আপৎকালীন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। রোগব্যাধি, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কর্মহীনতার মতো সময়ে আর্থিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এ ধরনের আকস্মিক বিপদ বা জরুরি মুহূর্তে পূর্বের সঞ্চিত অর্থ নিরাপত্তা জোগায় এবং সংকট মোকাবিলায় সরাসরি ভূমিকা রাখে। তাই সংকট উত্তরণে সঞ্চয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ রাহাত সাহেবের বাড়ি তৈরির জন্য ব্যাংক থেকে শর্ত সাপেক্ষে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি 'ঋণ' (Loan)-কে নির্দেশ করে।
ঋণ হলো নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারসহ কোনো ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ ধার নেওয়া। বাড়ি তৈরি, ব্যবসা বা বড় কোনো মূলধনি ব্যয়ের জন্য মানুষ সাধারণত ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাহাত সাহেব বাড়ি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব অর্থ না থাকায় ব্যাংকের সঙ্গে শর্তযুক্ত চুক্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। নির্দিষ্ট সময় পর সুদসহ এ অর্থ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে। গৃহনির্মাণের মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকের এ ধরনের শর্ত সাপেক্ষে অর্থ গ্রহণ অর্থায়নের অন্যতম মাধ্যম ঋণ গ্রহণকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ সুরাইয়া (সুমাইয়া) বেগমের কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ধারণাই যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে লাভ বা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বর্তমানের অর্থ কোনো ব্যবসায় বা লাভজনক খাতে খাটানোকে বিনিয়োগ বলে। বিনিয়োগ প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে—প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ও পরোক্ষ বিনিয়োগ। নিজের উদ্যোগে সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করা হলো প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে অর্থ লগ্নি করে নির্দিষ্ট মুনাফা অর্জন করা হলো পরোক্ষ বিনিয়োগ।
উদ্দীপকে সুরাইয়া বেগম অবসরোত্তর পেনশনের অর্থের অর্ধেক দিয়ে একটি খাবারের দোকান দেন। এটি একটি সরাসরি বা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, কারণ এখানে তিনি নিজে ব্যবসায় পরিচালনা ও ঝুঁকি গ্রহণ করে মুনাফা অর্জনের ব্যবস্থা করেছেন। আবার, বাকি অর্থ তিনি এমন একটি পদ্ধতিতে খাটান যা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দিয়ে নিয়মিত পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন—যা ব্যাংক সঞ্চয়ী স্কিম, সঞ্চয়পত্র বা কোনো আর্থিক সিকিউরিটিজে পরোক্ষ বিনিয়োগকে নির্দেশ করে।
সুতরাং, সুরাইয়া বেগম পেনশনের অর্থ স্বকর্মসংস্থানমূলক ব্যবসায় (প্রত্যক্ষ) এবং নির্দিষ্ট আয়ের আর্থিক খাতে (পরোক্ষ) উভয় মাধ্যমেই নিয়োজিত করেছেন। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের সামগ্রিক ধারণা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও