‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক যে নিয়মকানুন আরোপিত হয় তা সমাজ দ্বারাও স্বীকৃত হতে হয়।

  1. ক)

    'Liberty' কী ধরনের শব্দ?

    (1)
  2. খ)

    ধর্ম কীভাবে আইনের উৎস হিসাবে কাজ করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিষয়টির উৎস সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিষয়টির সাথে নৈতিকতার সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Liberty' একটি ইংরেজি শব্দ, যা লাতিন শব্দ 'Liber' থেকে এসেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধর্ম আইনের অন্যতম প্রধান ও প্রাচীনতম উৎস। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন, বিধিনিষেধ ও আদেশ-নিষেধকে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। মানুষ বিশ্বাস করত যে ধর্মীয় বিধি অমান্য করলে দৈব শাস্তি পেতে হবে। ফলে পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমাজশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই ধর্মীয় অনুশাসন ও অনুজ্ঞাগুলোর অনেকগুলোকেই রাষ্ট্রীয় আইনে রূপান্তর করা হয়। যেমন—পারিবারিক আইন (বিবাহ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি বণ্টন প্রভৃতি) মূলত ধর্মীয় বিধানের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে। এভাবে ধর্ম আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'আইন'। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ড আইনের সংজ্ঞায় বলেছেন— আইন হলো মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের সেই সাধারণ নিয়ম, যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকর হয়।

    আইনের প্রধান উৎসগুলো নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
    ১. প্রথা: প্রাচীনকাল থেকে সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার যা দীর্ঘকাল ধরে মান্য হয়ে আসছে, তা পরবর্তীতে রাষ্ট্রে আইনের মর্যাদা পায়।
    ২. ধর্ম: বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মীয় গ্রন্থ আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে (যেমন: মুসলিম আইন, হিন্দু আইন)।
    ৩. বিচারকের রায় বা বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত: কোনো মামলায় সুস্পষ্ট আইন না থাকলে বিচারকগণ নিজস্ব প্রজ্ঞা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রায় দেন, যা পরবর্তীতে নজির হিসেবে আইন হয়ে দাঁড়ায়।
    ৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা আইনবিদদের গ্রন্থ: প্রখ্যাত আইনবিদদের গবেষণালব্ধ ব্যাখ্যা ও গ্রন্থ (যেমন- কোক, ব্ল্যাকস্টোন, ডাইসি প্রমুখের মতামত) আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে।
    ৫. ন্যায়বোধ: বিদ্যমান আইন যদি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পারে, তবে বিচারকগণ ন্যায়বিচারের খাতিরে যুক্তি ও নীতিবোধ প্রয়োগ করে নতুন নিয়মের সৃষ্টি করেন।
    ৬. আইনসভা: আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের সর্বপ্রধান ও প্রত্যক্ষ উৎস হলো আইনসভা। জনগণের কল্যাণে আইনসভায় প্রতিনিয়ত নতুন আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো 'আইন'। নিচে আইন ও নৈতিকতার মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অভিন্ন উদ্দেশ্য: আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং সুন্দর ও সুসংহত সমাজজীবন গঠন করা।
    ২. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: আইন ও নৈতিকতা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। যে সমাজে নৈতিকতাবোধ যত উন্নত, সে সমাজে আইনের শাসন তত সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, আইনও অনৈতিক আচরণকে নিষিদ্ধ করে নৈতিকতাকে সুদৃঢ় করে।
    ৩. সমাজস্বীকৃতি ও উৎসগত সাদৃশ্য: আইন ও নৈতিকতার মূল উৎস মূলত সমাজের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি, বিশ্বাস ও প্রথা। যা সামাজিকভাবে নৈতিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য, রাষ্ট্র সাধারণত তাকেই আইনের রূপ দেয়।
    ৪. একে অপরের পরিপূরক: নৈতিকতাবোধহীন আইন সাধারণত সমাজে স্থায়ী হতে পারে না; অন্যদিকে আইনগত সমর্থন না থাকলে কেবল নৈতিকতা দিয়ে সবসময় অপরাধ দমন করা যায় না। যেমন—হত্যা, চুরি, মিথ্যা সাক্ষ্য ইত্যাদি নৈতিক দিক থেকেও নিষিদ্ধ এবং আইনের চোখেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, মানুষের বাহ্যিক আচরণ এবং অন্তর্গত মূল্যবোধকে পরিশুদ্ধ করে একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আইন এবং নৈতিকতা উভয়েই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে ও সাদৃশ্যপূর্ণভাবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন