‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব 'Y' জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের এই বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

  1. ক)

    যুক্তরাষ্ট্র গঠনের কোন পদ্ধতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    জনাব 'Y' রাষ্ট্রের কোন বিভাগের সদস্য? উক্ত বিভাগের গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্মিলন (Integration বা Aggregation) পদ্ধতিতে একাধিক সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ—পরস্পর থেকে সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন থেকে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করাকে বোঝায়। এই নীতির মূল প্রবক্তা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব 'Y' জাতীয় সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রের আইন বিভাগের সদস্য।

    বাংলাদেশের আইন বিভাগ অর্থাৎ জাতীয় সংসদের গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
    ১. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ', যা একটি এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
    ২. মোট আসন সংখ্যা: সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত।
    ৩. প্রত্যক্ষ নির্বাচন: দেশের একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে প্রত্যক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ৩০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
    ৪. সংরক্ষিত নারী আসন: নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
    ৫. মেয়াদ ও নেতৃত্ব: সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে পাঁচ বছর। সংসদ সদস্যগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার এবং একজনকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করেন, যারা সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি হলো—"তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের এই বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।" উক্তিটি আইন বিভাগের ভূমিকা ও গুরুত্বের নিরিখে অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরি করা, প্রচলিত আইন সংশোধন করা কিংবা বাতিল করা। আইন ছাড়া রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা অসম্ভব।
    ২. শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ: সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইন বিভাগ প্রশ্নোত্তর পর্ব, মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব ও অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রিসভাকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে এবং তাদের স্বৈরাচারী হওয়া থেকে রক্ষা করে।
    ৩. অর্থ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ: আইনসভা রাষ্ট্রের অর্থের একমাত্র অভিভাবক। জনগণের ওপর কর আরোপ, সরকারি অর্থ ব্যয় এবং জাতীয় বাজেট আইনসভার অনুমোদন ব্যতীত কার্যকর হতে পারে না।
    ৪. সংবিধান সংশোধন: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধান সংশোধন করার একচ্ছত্র ক্ষমতা আইন বিভাগের হাতে থাকে।
    ৫. বিচার ও তদন্তমূলক কাজ: আইনসভা রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের অপসারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার রাখে।

    সুতরাং, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় বলে এবং শাসনব্যবস্থাকে সচল ও নিয়ন্ত্রিত রাখে বলে আইন বিভাগ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব, উদ্দীপকে জনাব 'Y'-এর অভিমতটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন