কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনাব আফজাল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি দুগ্ধ খামার করেন এবং সঙ্কর জাতের। পাঁচটি দুগ্ধবতী গাভি ক্রয় করে পালন শুরু করেন। প্রতিটি গাভি দৈনিক গড়ে ২০ লিটার করে দুধ দেয়। গাভিগুলোকে প্রতিদিন সুষম। খাদ্য খাওয়ানো ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করেন। জনাব আফজালের সংসার বর্তমানে সচ্ছলভাবে চলছে। পরবর্তীতে তিনি খামারে দেশি বকনা ক্রয় করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে খামার বড় করার সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
সুষম খাদ্য কী?
- খ)(2)
সংকর জাতের গরুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আফজাল গাভির জন্য সুষম খাদ্য কীভাবে তৈরি করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দেশি গরুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য জনাব আফজালের সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্যে খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, চর্বি, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি) প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় চাহিদা অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উন্নত বিদেশি জাতের ষাঁড়ের সাথে দেশি জাতের গাভির মিলনের ফলে উৎপাদিত নতুন জাতকে সংকর জাতের গরু বলে। সংকর জাতের গরুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এরা দেশি জাতের তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শারীরিক গঠন বড় হয়।
২. এদের দুধ উৎপাদন ক্ষমতা দেশি গরুর চেয়ে অনেক গুণ বেশি হয়।
৩. এরা রোগ-প্রতিরোধে স্থানীয় প্রতিকূল পরিবেশের সাথে তুলনামূলকভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব আফজাল তার দুগ্ধবতী গাভির শারীরিক বৃদ্ধি, দেহের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কাঙ্ক্ষিত দুধ উৎপাদনের জন্য আঁশজাতীয় খাদ্য ও দানাদার খাদ্যের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য প্রস্তুত করবেন।
দুগ্ধবতী গাভির সুষম খাদ্য তৈরিতে মূলত দুটি অংশ থাকে:
১. আঁশজাতীয় খাদ্য (Roughage): পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁচা ঘাস (যেমন- নেপিয়ার, প্যারা বা জার্মান ঘাস) এবং শুকনা খড়।
২. দানাদার খাদ্য (Concentrate mixture): গম বা চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, খেসারি/ছোলা/অন্য ডালের ভুসি, খৈল (সরিষা বা তিল), লবণ, এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণ।প্রস্তুত প্রণালি: প্রতিটি গাভির দৈনিক দুধ উৎপাদন (যেমন গড়ে ২০ লিটার) ও দৈহিক ওজনের ওপর ভিত্তি করে দানাদার খাদ্যের উপাদানগুলো সঠিক অনুপাতে ওজন করে একসাথে ভালোভাবে মেশানো হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খড় কেটে নরম করে কাঁচা ঘাসের সাথে এবং পানিতে ভিজিয়ে দানাদার মিশ্রণ, খৈল ও লবণ সহযোগে গাভিকে নিয়মিত সরবরাহ করতে হয়। এর সাথে সর্বদা পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আফজালের দেশি বকনা ক্রয় করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে খামার সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, লাভজনক ও দূরদর্শী।
কৃত্রিম প্রজনন হলো উন্নত জাতের ষাঁড় থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বীজ (বীর্য) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে দেশি জাতের গাভি বা বকনার প্রজনন অঙ্গের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করার প্রযুক্তি। দেশি গরুর ক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবহারের সুবিধা ও যৌক্তিকতা নিচে দেওয়া হলো:
১. জাত উন্নয়ন: দেশি অনুন্নত বকনায় উন্নত জাতের (যেমন- ফ্রিজিয়ান বা শাহিওয়াল) সিমেন ব্যবহারের ফলে সংকর জাতের বাছুর জন্ম নেবে, যা ভবিষ্যতে উচ্চ উৎপাদনশীল দুগ্ধবতী গাভিতে রূপান্তরিত হবে।
২. ব্যয় সাশ্রয়: সরাসরি উন্নত জাতের বড় সংকর গাভি কেনার চেয়ে দেশি বকনা কেনা অনেক সাশ্রয়ী। পাশাপাশি খামারে আলাদা প্রজননক্ষম দামি ষাঁড় লালন-পালনের খরচ বাঁচে।
৩. রোগমুক্ত বংশবৃদ্ধি: কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংক্রামক প্রজনন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি দূর হয় এবং অল্প সময়ে অধিক উৎপাদনশীল গাভির পাল তৈরি করা যায়।অতএব, জনাব আফজালের এই সিদ্ধান্ত খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি, ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বিধায় সিদ্ধান্তটি শতভাগ যথাযথ ও বাস্তবসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও