ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুলতান ওরহান সামরিক ক্ষেত্রে কতগুলো সংস্কার সাধন করেন। তিনি অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে স্থায়ী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। আকিঞ্জী নামে একটি অনিয়মিত অশ্বারোহী বাহিনীও গঠন করেন। জেনিসারি নামে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত একটি নতুন,বাহিনী গড়ে তুলেন।

  1. ক)

    পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মুঘলদের পরিচয় দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সামরিক সংস্কারের সাথে কোন মুঘল সম্রাটের সামরিক সংস্কারের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসকের সামরিক সংস্কার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে (২১ এপ্রিল) সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল শব্দটি এসেছে মূলত 'মঙ্গোল' শব্দ থেকে। মুঘলরা ছিল মধ্য এশিয়ার দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতি। তবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর পিতার দিক থেকে তুর্কি বীর তৈমুর লং এবং মাতার দিক থেকে মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। এই মিশ্র ঐতিহ্যের অধিকারী শাসকবর্গই ভারতে মুঘল নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সুলতান ওরহানের সামরিক সংস্কারের সাথে মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মুহম্মদ আকবরের সামরিক সংস্কারের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান ওরহান পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বয়ে সুসংগঠিত সামরিক বাহিনী গঠন এবং বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত বাহিনী গড়ে তোলেন। মুঘল সম্রাট আকবরও তার সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল করতে 'মনসবদারি প্রথা' প্রবর্তন করেন। আকবরের এই প্রথায় সামরিক পদমর্যাদা বিন্যাস, অশ্বারোহী ও পদাতিক সেনার সমন্বয় এবং দাগ ও হুলিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়। তাই সুলতান ওরহানের মতো সম্রাট আকবরও সৈন্যবাহিনীর যুগান্তকারী সংস্কার সাধন করেছিলেন বলে উভয়ের সংস্কারে গভীর মিল পরিলক্ষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মুঘল সম্রাট আকবরের সামরিক সংস্কার বা মনসবদারি প্রথা ছিল মধ্যযুগীয় ভারতের সামরিক ইতিহাসের এক অনন্য ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার।

    ১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর মনসবদারি প্রথা প্রবর্তন করেন। 'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা স্থান। আকবর তার প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মোট ৬৬টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন (যার মধ্যে ৩৩টি কার্যকর ছিল)। সর্বনিম্ন ১০ জন থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ বা তার বেশি সৈন্যের ওপর আধিপত্য অনুযায়ী মনসব প্রদান করা হতো। মনসবদারদের দুটি পদের মাধ্যমে মর্যাদা নির্ধারিত হতো—'জাত' (ব্যক্তিগত পদমর্যাদা ও বেতন) এবং 'সওয়ার' (নির্দিষ্ট সংখ্যক অশ্বারোহী সেনা রাখার দায়িত্ব)।

    সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্রাট আকবর আলাউদ্দিন খলজির অনুকরণে ঘোড়া চিহ্নিত করার জন্য 'দাগ' এবং সেনাদের দৈহিক বিবরণ লিপিবদ্ধ রাখার জন্য 'হুলিয়া' বা 'চেহরা' প্রথার পুনঃপ্রবর্তন করেন। এছাড়া তিনি পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ ও হস্তীবাহিনী—এই চার ধরনের সামরিক শাখার সুষম বিন্যাস করেন। পদমর্যাদা কোনো বংশানুক্রমিক ছিল না, বরং মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদাবনতি ঘটত। এই সুবিন্যস্ত সামরিক কাঠামোর ফলেই আকবর একটি বিশাল ও সুসংহত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন