ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'মনসব' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
সম্রাট আওরঙ্গজেবকে 'জিন্দাপির' বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন মুঘল সম্রাটের স্থাপত্যকর্মের নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মুঘলস্থাপত্য শিল্পে উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ পদমর্যাদা, পদবি বা স্থান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব অত্যন্ত অনাড়ম্বর, ধার্মিক ও সংযমী ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতেন। তিনি ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজকোষ থেকে অর্থ নিতেন না, বরং নিজে টুপি সেলাই করে এবং পবিত্র কুরআন শরিফের প্রতিলিপি তৈরি করে উপার্জিত অর্থে চলতেন। কঠোরভাবে ইসলামি শরিয়তের অনুশাসন মেনে চলা এবং তাঁর সাধাসিধে ও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের কারণে সমকালীন সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে 'জিন্দাপির' বা 'জীবন্ত সাধু' বলে অভিহিত করতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের বিখ্যাত স্থাপত্যকর্ম 'তাজমহল'-কে নির্দেশ করে।
মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম (মমতাজ মহল)-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য আগ্রার যমুনা নদীর তীরে এই অপরূপ সৌধটি নির্মাণ করেন। এটি সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত বিশ্বের অন্যতম প্রধান সপ্তাশ্চর্যের একটি। ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রায় বাইশ বছর ধরে তৈরি হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে তাজমহলের কেন্দ্রীয় গম্বুজ, চার কোণে চারটি সুউচ্চ মিনার এবং সম্মুখস্থ বাগান ও জলাশয়ের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের স্থাপত্যকর্মটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর কীর্তি তাজমহলকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের অবদান অনন্য ও অবিস্মরণীয়। স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তাঁর শাসনকালকে মুঘল স্থাপত্যের 'স্বর্ণযুগ' এবং তাঁকে 'মুঘল স্থাপত্যের রাজপুত্র' বা 'Prince of Builders' বলা হয়।
সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যকর্মের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে শ্বেতশুভ্র মার্বেল পাথরের বহুল ব্যবহার, জটিল ও সূক্ষ্ম নকশা (পিয়েত্রা দুরা), আকর্ষণীয় খিলান ও চোখজুড়ানো গম্বুজ। তাঁর অমর সৃষ্টি তাজমহল শুধু মুঘল সাম্রাজ্যেরই নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব স্থাপত্যের এক অতুলনীয় নিদর্শন ও প্রেমের প্রতীক।
তাজমহল ছাড়াও তিনি দিল্লিতে একটি নতুন শহর 'শাহজাহানাবাদ' পত্তন করেন। সেখানে তিনি বিখ্যাত লাল কেল্লা (রেড ফোর্ট) এবং এর ভেতরে অবস্থিত দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস ও রঙমহল নির্মাণ করেন। দিল্লির সুবৃহৎ 'জামে মসজিদ' এবং আগ্রা দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত অনুপম 'মতি মসজিদ' তাঁর স্থাপত্য প্রতিভার উজ্জ্বল নিদর্শন। এছাড়া তিনি লাহোরের শালিমার গার্ডেন এবং বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ও দৃষ্টিনন্দন 'ময়ূর সিংহাসন' নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শাহজাহানের সূক্ষ্ম রুচিবোধ ও সৌন্দর্যপ্রিয়তা মুঘল স্থাপত্যকে সৌন্দর্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। ফলে মুঘল স্থাপত্যকলার ইতিহাসে তাঁর অবদান অতুলনীয় ও চিরভাস্বর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও