ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুলতান উসমান পিতার সিংহাসনে আরোহণ করে অল্প দিনের মধ্যেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে রাজ্য ছাড়া হন। পরবর্তীতে তিনি পার্শ্ববর্তী রাজ্যসমূহের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সেখানে আক্রমণ করেন। উন্নত সমরাস্ত্রের সাহায্যে তিনি প্রতিরেশীর বিশাল সৈন্যবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। অতঃপর ঐ রার্জ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করার গৌরব অর্জন করেন।
- ক)(1)
'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'দ্বীন-ই-ইলাহি' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে কোন মুঘল শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ ভাগ্যবান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দ্বীন-ই-ইলাহি' হলো ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সর্বজনীন ও সমন্বয়বাদী ধর্মমত। তিনি বিভিন্ন ধর্মের (ইসলাম, হিন্দু, জৈন, খ্রিষ্টান, পারসি ইত্যাদি) সারসত্য ও ভালো দিকগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও একতা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এই মতাদর্শ চালু করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসক সুলতান উসমানের সাথে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল রয়েছে।
বাবর মাত্র এগারো বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর ফরগানার সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু স্বজন ও প্রতিবেশীদের ষড়যন্ত্র ও আক্রমণের শিকার হয়ে তিনি পৈতৃক রাজ্যসহ সমরখন্দ হারিয়ে নিঃস্ব ও রাজ্যচ্যুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ যাযাবর জীবনের পর তিনি কাবুলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের লোদি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করেন। তিনি ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে আধুনিক সমরাস্ত্র যেমন কামান ও তোপখানার সাহায্যে ইব্রাহিম লোদির বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন।
উদ্দীপকের উসমানের রাজ্যচ্যুতি, প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উন্নত সমরাস্ত্র দিয়ে জয়লাভ এবং নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্রাট বাবরের জীবনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের কৃতিত্ব অনন্য ও অসামান্য।
পৈতৃক রাজ্য হারিয়ে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বাবর তাঁর অদম্য মনোবল ও সামরিক দক্ষতাকে কাজে লাগান। কাবুলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি ভারতবর্ষের দিল্লির সুলতানি আমলের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও পতনের সুযোগ গ্রহণ করেন।
বাবরের প্রধান কৃতিত্বসমূহ নিম্নরূপ:
১. রণকৌশল ও সমরাস্ত্রের আধুনিকায়ন: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে (১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি ভারতে প্রথমবারের মতো সফলভাবে কামান ও বারুদের ব্যবহার করেন এবং অটোমানদের রুমি কৌশল বা তুলঘুমা রণকৌশল প্রয়োগ করে ইব্রাহিম লোদির লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাজিত করেন।
২. সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন: এরপর তিনি রাজপুত বীর রানা সঙ্গকে খানুয়ার যুদ্ধে (১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে) এবং আফগানদের ঘাগড়ার যুদ্ধে (১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে) চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে তাঁর নবপ্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যকে শত্রুমুক্ত ও নিরাপদ করেন।
৩. বহুমুখী প্রতিভা: তিনি কেবল একজন সমরকুশলী বিজেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সুশাসক, সাহিত্যিক (তুজুক-ই-বাবরি-র রচয়িতা) এবং সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ।সুতরাং শূন্য থেকে শুরু করে নিজ প্রতিভা, সাহস ও উন্নত সামরিক কৌশলের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের মতো একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গৌরবোজ্জ্বল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বাবরের অবদান অতুলনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও