ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রাজিব যে সমাজে বসবাস করত সে সমাজটি নানা জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণিবৈষম্যে বিভক্ত ছিল। যেখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত এর চার শ্রেণির মানুষ বাসবাস করত। সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল প্রকট। অধিকাংশ লোক নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে বসবাস করলেও তাদের তেমন কোনো অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা ছিল না। প্রথম দুই শ্রেণিই সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং তাদের হাতেই ছিল মূলতসকল ক্ষমতা।

  1. ক)

    মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী কোথায় ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতের কোন সমাজের বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সমাজের অবস্থা যেন প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক চিত্র- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে সিন্ধুর রাজধানী ছিল আরোর (বা আলোড়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতবর্ষে প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা জাতি, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষ এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় একে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' (Ethnological Museum) বলা হয়। যুগে যুগে আর্য, দ্রাবিড়, শক, হুণ, কুশান, তুর্কি, মোঘলসহ বিভিন্ন মানবজাতির সংমিশ্রণ এখানে ঘটেছিল। তাদের বিচিত্র শারীরিক গঠন, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি একত্রে সংরক্ষিত ও বিকশিত হওয়ায় ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলে অভিহিত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের হিন্দু সমাজের বর্ণপ্রথা ও সামাজিক বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

    প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষে হিন্দু সমাজ কঠোর বর্ণভেদ প্রথা বা 'চাতুর্বর্ণ' দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। সমাজ চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত ছিল—ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। এর মধ্যে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা সমাজের শীর্ষস্থানে থেকে সর্বময় ক্ষমতা, ভূসম্পত্তি ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। অন্যদিকে বৈশ্য এবং বিশেষ করে শূদ্র ও অস্পৃশ্য শ্রেণির মানুষ ছিল অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত।

    উদ্দীপকের রাজিবের সমাজেও অনুরূপভাবে চারটি শ্রেণি দেখা যায়, যেখানে উচ্চশ্রেণি সব ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিম্নশ্রেণি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। সুতরাং উদ্দীপকের সমাজের সাথে প্রাক-মুসলিম ভারতের বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজের অমানবিক বৈষম্য প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের তৎকালীন আর্থ-সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

    মুসলিম বিজয়ের পূর্বে ভারতবর্ষে এক চরম বৈষম্যমূলক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা বিরাজ করছিল। হিন্দু সমাজে প্রচলিত বর্ণপ্রথা অনুযায়ী ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা রাজনৈতিক ক্ষমতা, ভূমি ও সামাজিক মর্যাদা কুক্ষিগত করে রাখত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্রাহ্মণদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। অন্যদিকে শূদ্র ও অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের জীবন ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ; তারা বিদ্যাচর্চা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং সমাজে অস্পৃশ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবর্ণের মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতো, যার ফলে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও নিঃস্ব হতো।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, সমাজের অধিকাংশ মানুষ নিম্নবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কোনো মানবিক মর্যাদা বা অধিকার ছিল না এবং গুটিকয়েক উচ্চবিত্তই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। এই চিত্র প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজের বর্ণবৈষম্য এবং সামন্ততান্ত্রিক শোষণের প্রকৃত রূপকেই তুলে ধরে।

    অতএব, উদ্দীপকের সমাজের সার্বিক অবস্থা যথার্থভাবেই প্রাক-মুসলিম ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক চিত্রকে প্রতিফলিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন