ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আফ্রিকার একটি দেশ হলো সুদান। সুদানের উত্তরাঞ্চলের আয়তন দক্ষিণাঞ্চলের-চেয়ে অনেক বড় হলেও জনসংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে নদী-নালা কম থাকার কারণে ভূমি ছিল অনুর্বর এবং কোথাও কোথাও মরূময়। অন্যদিকে নদীবিধৌত দক্ষিণ সুদান ছিল উর্বর এবং খনিজ সম্পদে ভরপুর। রাষ্ট্র ক্ষমতায় উত্তর সুদানের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় দক্ষিণ সুদানকে অর্থনীতিসহ নানাভাবে বঞ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে দক্ষিণ সুদান সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দিলে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কয় দফা ঘোষণা করে?
- খ)(2)
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দেশের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দুঃশাসন, দমননীতি এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র-জনতার যে তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলা হয়।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবি বাস্তবায়ন। আসাদ, মতিউর ও ড. শামসুজ্জোহার মতো বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুদানের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুদান রাষ্ট্রটিতে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈষম্য ছিল—উত্তরাঞ্চল আয়তনে বড় ও অনুর্বর হলেও ক্ষমতায় তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল উর্বর ও সম্পদে ভরপুর হলেও তারা নানাভাবে বঞ্চিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন হয়।
একইভাবে, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এমন ভৌগোলিক ও জনমিতিক বৈচিত্র্য দেখা যায়। পশ্চিম পাকিস্তানের ভৌগোলিক আয়তন পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বড় হলেও তাদের ভূমি ছিল শুষ্ক ও অনুর্বর এবং জনসংখ্যা ছিল কম। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) ছিল নদীবিধৌত, উর্বর এবং পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫৬ ভাগ মানুষ এখানে বাস করত। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে দীর্ঘকাল শোষণ ও বঞ্চনা করে। অতএব, উদ্দীপকের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবইয়ের আলোকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অধীনে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থনৈতিক নীতিগুলো নিজেদের স্বার্থে পরিচালনা করত। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো ছিল:
১. রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা বণ্টন: পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট ও চা রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে কাঁচামাল নিয়ে গিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে কারখানা গড়ে তোলা হতো।
২. উন্নয়ন বাজেট ও বৈদেশিক সাহায্য: বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রায় ৭০-৮০ ভাগ অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো, অথচ পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাস করত পূর্ব বাংলায়।
৩. বাণিজ্য বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানি পণ্যের জন্য একচেটিয়া বাজারে পরিণত করা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করা হতো, ফলে সম্পদ একতরফাভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাচার হতো।
৪. কর্মসংস্থান ও ব্যাংকিং খাত: পাকিস্তান রাষ্ট্রের মূল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় দপ্তরসমূহ পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত হওয়ায় মূলধনের কোনো সুষম বণ্টন ছিল না।
উপরিউক্ত অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও শোষণের কারণেই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দাবি পেশ করেন, যা ঐতিহাসিক স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও