কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

আবুল হাশেম একজন ভূমিহীন দরিদ্র কৃষক। সে অন্যের। জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সে তার গ্রামের সড়কের দু'পাশে বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা করে। এজন্য সে তার মত দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। পরে তারা মহাসড়কের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যে একটি চুক্তিপত্র। করে। এরপর তারা মহাসড়কের পাশে গাছ লাগানো শুরু করে। উপকারভোগী হিসেবে আবুল হাশেম ও তার সংগঠনের সদস্যদের লভ্যাংশ প্রাপ্তি ও সুবিধা ভোগের জন্য আরও কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য। পালন করতে হবে।

  1. ক)

    কৃষি বন কী?

    (1)
  2. খ)

    সকল ট্রেনিং প্রুনিং কিন্তু সকল প্রুনিং ট্রেনিং নয় কেন? ব্যাখ্যা। করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ধরনের বনায়নের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী হাশেম ও তার সংগঠনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই জমিতে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বৃক্ষ, ফসল এবং পশুপাখি বা মাছের পরিকল্পিত ও সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থাকে কৃষি বন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের নির্দিষ্ট অংশ বিশেষ করে শুকনো, রোগাক্রান্ত বা অতিরিক্ত ডালপালা কেটে বাদ দেওয়াকে প্রুনিং বলে; অন্যদিকে গাছের একটি কাঙ্ক্ষিত কাঠামো বা সঠিক আকৃতি দেওয়ার সামগ্রিক প্রক্রিয়াই হলো ট্রেনিং।

    গাছকে নির্দিষ্ট কাঠামো বা ট্রেনিং দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অবাঞ্ছিত শাখা-প্রশাখা প্রুনিং বা ছাঁটাই করতে হয়। তাই ট্রেনিং প্রক্রিয়ার ভেতরেই প্রুনিং অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু প্রুনিং কেবল গাছের আকার আকৃতি ঠিক করার জন্যই করা হয় না; বরং গাছের রোগাক্রান্ত ডাল অপসারণ, ফুল-ফল বৃদ্ধি বা আলো-বাতাস চলাচলের জন্যও প্রুনিং করা হয়। এজন্য বলা হয়— সকল ট্রেনিং-ই প্রুনিং, কিন্তু সকল প্রুনিং ট্রেনিং নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মহাসড়ক বা সড়কের পাশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমটি হলো সামাজিক বনায়ন (স্ট্রিপ প্ল্যান্টেশন বা ফালি বনায়ন)।

    এই বনায়নের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

    বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন একটি অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয় উদ্যোগ। বন বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমঝোতার মাধ্যমে সড়কের পাশে অব্যবহৃত প্রান্তিক জমিতে ভূমিহীন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের বনায়ন বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে বন আচ্ছাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বহু পরিবার সুবিধাভোগী হিসেবে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে।

    সম্ভাবনা:
    ১. প্রান্তিক ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার: সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ ও রেললাইনের পাশের পতিত জমি কাজে লাগিয়ে দেশের মোট বনভূমির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
    ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন: এ ধরনের বনায়নে প্রান্তিক কৃষক ও নারীদের সম্পৃক্ত করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে স্থায়ী দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব।
    ৩. কাঠের ঘাটতি পূরণ ও পরিবেশের সুরক্ষা: জ্বালানি কাঠ ও আসবাবপত্রের কাঠের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শব্দ-বায়ুদূষণ রোধে এবং মাটির ক্ষয়রোধে অসীম সম্ভাবনা বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী হিসেবে চুক্তি অনুযায়ী আবুল হাশেম ও তার সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকের আলোকে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. চারার সুরক্ষা ও পরিচর্যা: রোপণকৃত চারাগুলো গবাদি পশুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়া বা খাঁচার ব্যবস্থা করা, নিয়মিত পানি দেওয়া এবং আগাছা পরিষ্কার করা হাশেম ও তার সংগঠনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
    ২. বৃক্ষের ট্রেনিং ও প্রুনিং: গাছগুলো যেন সোজা হয়ে বৃদ্ধি পায় এবং ভালো মানের কাঠ উৎপাদন করতে পারে, সেজন্য প্রাথমিক অবস্থা থেকেই গাছের কাণ্ড শাখামুক্ত রাখা এবং সঠিকভাবে ট্রেনিং ও প্রুনিং সম্পন্ন করা তাদের কর্তব্য।
    ৩. শূন্যস্থান পূরণ (ইনফিলিং): কোনো চারা মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সেই স্থানে নতুন সুস্থ-সবল চারা এনে রোপণ নিশ্চিত করা।
    ৪. নিরাপত্তা ও পাহারা প্রদান: রোপিত গাছগুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হয়ে কর্তন পর্যন্ত যাতে কেউ ক্ষতিসাধন বা চুরি করতে না পারে, সেজন্য সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত পাহারা ও তদারকি করতে হবে।
    ৫. রোগবালাই ও পোকা দমন: গাছে কোনো রোগ বা ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা দিলে যথাযথ বালাইনাশক বা প্রাকৃতিক উপায়ে তা দমন করা।
    ৬. চুক্তির শর্ত পালন ও রাজস্ব বণ্টন: মহাসড়কের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান এবং বন বিভাগের নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা এবং কর্তনযোগ্য বয়সে আইনানুগভাবে কাঠ বিক্রয় করে লভ্যাংশের ভাগ বণ্টন নিশ্চিত করা।

    সুতরাং, উল্লিখিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো একনিষ্ঠভাবে পালনের মাধ্যমেই আবুল হাশেম ও তার সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুফল পেতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন