কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সুষম খাদ্য কী?
- খ)(2)
"ছাগল গরিবের গাভি"-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র 'ক' এর প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ' এর মধ্যে কোনটি পালন করা লাভজনক? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্যে খাদ্যের প্রধান ছয়টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) দেহের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গরিব মানুষের গাভি কেনার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও অতি অল্প পুঁজিতে সহজেই ছাগল পালন করা যায়। ছাগলকে স্বল্প জায়গায়, বাড়ির আঙিনায় বা মাঠের পতিত ঘাস-পাতা খাইয়ে লালন-পালন করা সম্ভব। নিয়মিত ছাগলের দুধ পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটায় এবং বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে দ্রুত নগদ অর্থ উপার্জন সম্ভব হয়। গাভির বিকল্প হিসেবে দরিদ্র পরিবারের আয় ও দুধের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে বলেই ছাগলকে 'গরিবের গাভি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' (চিত্র-১)-এর প্রাণীটি হলো বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল'। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. দৈহিক গঠন: এদের দেহ আঁটসাঁট, খাটো ও পা তুলনামূলক ছোট। গায়ের রঙ সাধারণত কালো, তবে বাদামি, ধূসর বা সাদার মিশ্রণও দেখা যায়। কান ও শিং ছোট এবং খাড়া থাকে।
২. দ্রুত প্রজননক্ষমতা: এ জাতের ছাগল দ্রুত বয়ঃপ্রাপ্ত হয় (৮-১০ মাসে) এবং বছরে দুবার ও প্রতিবারে সচরাচর ২ থেকে ৪টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে।
৩. চামড়া ও মাংসের মান: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এর চামড়া বিশ্বখ্যাত (আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান)।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: স্থানীয় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এরা সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল এবং চিত্র 'খ' হলো ভারতীয় জাতের যমুনাপারি ছাগল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সার্বিক বিবেচনায় চিত্র 'ক' অর্থাৎ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করাই অধিক লাভজনক।
এর স্বপক্ষে যুক্তিগুলো হলো:
১. অধিক বাচ্চা উৎপাদন: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বছরে দুবার এবং প্রতিবারে একাধিক (২-৪টি) বাচ্চা দেয়। পক্ষান্তরে যমুনাপারি ছাগল বছরে একবার বা সাধারণত ১-২টি বাচ্চা প্রসব করে। ফলে বাচ্চার সংখ্যার দিক দিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল অনেক বেশি লাভজনক।
২. চামড়া ও মাংসের আন্তর্জাতিক চাহিদা: ব্ল্যাক বেঙ্গলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও চামড়া বিশ্বমানের, যা বাজারে দ্রুত ও ভালো দামে বিক্রি হয়।
৩. রোগবালাই ও জলবায়ু সহনশীলতা: দেশীয় জাত হওয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল আমাদের আবহাওয়া উপযোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। অপরদিকে যমুনাপারি ছাগলের সংবেদনশীলতা বেশি এবং অতিরিক্ত যত্ন ও উন্নত বাসস্থান প্রয়োজন হয়।
৪. অল্প পুঁজিতে লালন-পালন: ব্ল্যাক বেঙ্গল আকারে ছোট হওয়ায় এদের খাদ্যের চাহিদা কম এবং মাঠে চড়ে সহজে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে খরচ অত্যন্ত কম হয়।যদিও যমুনাপারি ছাগল বেশি দুধ ও মাংস দেয়, তবুও অধিক বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা, অল্প পরিচর্যা ও কম মৃত্যুর হারের কারণে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনই বাণিজ্যিকভাবে অধিক নিশ্চিত ও লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও