কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
তাসরীফের পুকুরে কিছু রাজপুঁটি মাছ ভেসে উঠেছে। সে একটি মাছ পুকুর থেকে উঠিয়ে দেখেন দেহে লালদাগ ও ক্ষত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগোযোগের মাধ্যমে তাসরীফ এ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে রোগ অন্য মাছে ছড়ায়নি।
- ক)(1)
প্লাংটন কী?
- খ)(2)
পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তাসরীফ তার পুকুরের মাছের রোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিতে ভাসমান বা মুক্তভাবে বিচরণকারী আণুবীক্ষণিক জীবকে প্লাংটন (Plankton) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পুকুরের সার্বিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, রোগজীবাণু ধ্বংস এবং মাছের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে চুন প্রয়োগ করা হয়।
চুন প্রয়োগের প্রধান কারণসমূহ:
১. মাটির অম্লত্ব দূর করে এবং পানির পিএইচ (pH) মাত্রা স্বাভাবিক (৭.৫-৮.৫) রাখে।
২. ক্ষতিকর রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে পুকুরকে রোগমুক্ত করে।
৩. পানির ঘোলাটে ভাব দূর করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে এবং তলার বিষাক্ত গ্যাস দূর করে প্রাকৃতিক খাদ্য (প্লাংটন) তৈরিতে সহায়তা করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাসরীফের পুকুরের রাজপুঁটি মাছের দেহে লালদাগ ও ক্ষত দেখা যাওয়ায় বোঝা যায় মাছগুলো 'ক্ষত রোগ' বা এপিজুওটিক আলসারেটিভ সিনড্রোম (EUS)-এ আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ সারানো এবং বিস্তার রোধে তাসরীফ নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. চুন ও লবণ প্রয়োগ: পুকুরের রোগজীবাণু ধ্বংস ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন এবং ১ কেজি হারে লবণ পুকুরের পানিতে ভালোভাবে গুলে ছিটিয়ে দিয়েছে।
২. আক্রান্ত মাছের প্রাথমিক চিকিৎসা: আক্রান্ত মাছ তুলে প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট অথবা ২-৩% লবণ পানিতে ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে পুনরায় পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩. সম্পূরক খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ: মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে খাদ্যের সাথে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা টেট্রাসাইক্লিন মিশিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় মাছেদের সরবরাহ করা হয়েছে।
৪. জীবাণুযুক্ত মাছ অপসারণ: অতিরিক্ত আক্রান্ত বা মৃত মাছগুলো পুকুর থেকে দ্রুত তুলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে, যাতে রোগটি সুস্থ মাছে ছড়াতে না পারে।এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই তাসরীফ তার পুকুরের মাছের রোগ নিরাময় ও রোগের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন তাসরীফের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ ছিল। নিচে এর কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সঠিক রোগ নির্ণয়: মাছের গায়ে লাল দাগ ও ক্ষত হওয়া একটি বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ (EUS), যা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার যৌথ সংক্রমণে ঘটে থাকে। সাধারণ চাষির পক্ষে এর গভীরতা বোঝা কঠিন হলেও মৎস্য কর্মকর্তা সঠিকভাবে রোগটি শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
২. মহামারির হাত থেকে রক্ষা: ক্ষত রোগ অত্যন্ত দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তাৎক্ষণিক বৈজ্ঞানিক প্রতিকার ব্যবস্থা (যেমন- চুন, লবণ ও পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের সুনির্দিষ্ট মাত্রা) প্রয়োগের নির্দেশ না পেলে পুকুরের সমস্ত মাছ আক্রান্ত হয়ে মারা যেত।
৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিরোধ: মাছ মারা গেলে চাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তেন। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শের ফলে রোগটি পুকুরের অন্যান্য মাছে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়েছে, যা তাসরীফের পুঁজি ও সম্ভাব্য লাভ রক্ষা করেছে।
৪. ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া অনির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করলে মাছের বিষক্রিয়া বা খাদ্যচক্রের ক্ষতি হতে পারত। সঠিক নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়ায় মাছ ও পরিবেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।অতএব, মৎস্য কর্মকর্তার বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ গ্রহণ করায় পুকুরের মাছের রোগ দমন ও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, বিধায় তাঁর পরামর্শ ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও