কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

সেলিম রাজের হাঁসের খামারে হঠাৎ করে বেশ কিছু হাঁসের নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে দেখা যায়। হাঁসগুলো আলো দেখলেই ভয় পায়। 'সে দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দ্বারা তার খামারটি পরিদর্শন করিয়ে নেয়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খামারটি পরিদর্শন করে সেলিম রাজকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং তাকে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন। সেলিম রাজ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে তার খামারের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে সফলতা লাভ করে।

  1. ক)

    ব্রয়লার কী?

    (1)
  2. খ)

    পোল্ট্রির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সেলিম রাজের খামারে কী রোগ হয়েছে? উক্ত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সেলিম রাজ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে দ্রুত বর্ধনশীল যেসব বিশেষ জাতের মুরগি স্বল্প সময়ে (৪-৬ সপ্তাহে) লালন-পালন করা হয়, সেগুলোকে ব্রয়লার (Broiler) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পোল্ট্রি বলতে সাধারণত গৃহপালিত সেইসব পাখিকে বোঝায় যেগুলো মানুষের তত্ত্বাবধানে বংশবৃদ্ধি করে এবং যাদের থেকে ডিম, মাংস ও পালক পাওয়া যায় (যেমন- মুরগি, হাঁস, কোয়েল ইত্যাদি)। মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ করে সহজে হজমযোগ্য প্রথম শ্রেণির প্রাণিজ আমিষের যোগান দিতে পোল্ট্রির ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া স্বল্প পুঁজিতে পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন ও জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে পোল্ট্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সেলিম রাজের হাঁসের খামারে 'ডাক প্লেগ' (Duck Plague) বা হাঁসের প্লেগ রোগ হয়েছে।

    রোগের কারণ:
    ডাক প্লেগ হলো হার্পিস ভাইরাস (Herpesvirus) গোত্রভুক্ত একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। দূষিত খাদ্য, পানি ও আক্রান্ত হাঁসের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    রোগের লক্ষণসমূহ:
    ১. আক্রান্ত হাঁসের নাক ও মুখ দিয়ে আঠালো বা তরল লালা জাতীয় পদার্থ বের হয়।
    ২. হাঁস আলো সহ্য করতে পারে না বা আলো দেখলে ভয় পায় (ফটোফোবিয়া)।
    ৩. হাঁস খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়।
    ৪. হাঁস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ডানা ঝুলিয়ে ও মাথা নিচু করে বসে থাকে।
    ৫. চোখের পাতা ফুলে যায় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
    ৬. পাতলা ও সবুজাভ-সাদা রঙের দুর্গন্ধযুক্ত মল ত্যাগ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক হাঁস মারা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সেলিম রাজের খামারের রোগ দমন ও সফল ব্যবস্থাপনার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা আবশ্যক:

    ১. আক্রান্ত হাঁস পৃথকীকরণ: খামারের অসুস্থ ও লক্ষণযুক্ত হাঁসগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে সুস্থ হাঁস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
    ২. মৃত হাঁস অপসারণ: রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া হাঁসগুলোকে খামার এলাকা থেকে দূরে নিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করতে হবে।
    ৩. খামার জীবাণুমুক্তকরণ: হাঁসের ঘর, খাদ্য ও পানির পাত্র এবং ব্যবহৃত সকল সরঞ্জাম উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
    ৪. টিকাদান কর্মসূচি: সুস্থ হাঁসগুলোকে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ডাক প্লেগের ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদান করতে হবে।
    ৫. বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা জোরদার: খামারে বাইরের মানুষ বা বুনো পাখির প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। খামারের প্রবেশপথে জীবাণুনাশকযুক্ত ফুটবাথ রাখতে হবে।
    ৬. সুষম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: হাঁসকে পুষ্টিকর, বিষাক্ততামুক্ত সুষম খাবার ও সবসময় নিরাপদ-বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
    ৭. আদর্শ প্রতিপালন পরিবেশ: ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, আর্দ্রতামুক্ত মেঝে তৈরি এবং অতিরিক্ত গাদাগাদি পরিহার করে আদর্শ প্রতিপালন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে।

    উপযুক্ত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সেলিম রাজ তার খামারকে রোগমুক্ত করে ব্যবসায়িক সফলতা বজায় রাখতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন