পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ডা. ফারজানা পেশায় চিকিৎসক হলেও একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। সে তার শিক্ষক বাবার কাছ থেকে একটা বই নিয়ে পড়ে নাগরিকতা বিষয়ক অনেক তথ্য জানতে পারে। সেই সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সরকার, সংবিধান সম্পর্কেও জানতে পারে। সে উপলব্ধি করে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে প্রতিটা নাগরিকের এই বিষয়টি পাঠ করা প্রয়োজন।
- ক)(1)
সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
- খ)(2)
পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ডা. ফারজানা কোন বিষয়ের বই পড়েছেন? উক্ত বিষয়টির পরিধি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বিষয়টি কেন বাংলাদেশের জনগণের পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Good Governance'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরনীতি হলো সেই বিজ্ঞান, যা নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, কার্যাবলি এবং নাগরিক জীবনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা করে। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ পর্যালোচনা করার কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ই. এম. হোয়াইট পৌরনীতিকে 'নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান' (Science of Citizenship) বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ডা. ফারজানা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' (Civics and Good Governance) বিষয়ের বই পড়েছেন।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। নিচে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. নাগরিকতা সংক্রান্ত আলোচনা: নাগরিকের সংজ্ঞা, নাগরিকতা অর্জনের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, অধিকার ও কর্তব্য ইত্যাদি পৌরনীতির কেন্দ্রীয় পরিধিভুক্ত।
২. রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহ: পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সরকারের স্বরূপ, সংবিধানের শ্রেণিবিভাগ ও অঙ্গসমূহ নিয়ে এটি বিস্তারিত আলোচনা করে।
৩. রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলন: কোনো জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন, সংবিধান প্রণয়ন ও রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস এর অন্তর্ভুক্ত।
৪. বিশ্বমানবতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে এটি আলোচনা করে।
৫. সুশাসনের ধারণা: আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক এর পরিধিভুক্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা: একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাফল্য নির্ভর করে সচেতন ও সুনাগরিকের ওপর। এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেকবান হওয়ার শিক্ষা লাভ করে।
২. অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার (যেমন বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার) সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং রাষ্ট্রের প্রতি কর প্রদান ও আইন মান্য করার মতো কর্তব্যগুলো দায়িত্বশীলভাবে পালন করতে শেখে।
৩. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান: শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের কার্যাবলি এবং সংবিধানের রূপরেখা জানার মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে পারে।
৪. জাতীয় সংহতি ও উন্নয়ন ভাবনা: স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে এ পাঠ অপরিহার্য।
৫. সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ: দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের যে নজরদারি প্রয়োজন, তার চেতনা জাগাতে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও