পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার উন্মেষ ঘটে। ইতালীয় রাষ্ট্র দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি তার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করেন যে, আগামী দিনের রাষ্ট্র হবে 'জাতি রাষ্ট্র' এবং তার ভিত্তি হবে 'জাতীয়তাবাদ'। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও জাতি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির পেছনে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
Nation শব্দটির উদ্ভব হয়েছে কোন শব্দ থেকে?
- খ)(2)
জাতি ও জাতীয়তার দুটি পার্থক্য তুলে ধরো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির জন্য যে উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত উপাদান ছাড়া জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির অন্যান্য উপাদান বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংরেজি 'Nation' শব্দটির উদ্ভব হয়েছে ল্যাটিন শব্দ 'Natus' বা 'Natio' থেকে, যার অর্থ জন্ম বা উৎপত্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
১. রাজনৈতিক চেতনা ও সংগঠন: জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি, যেখানে রাজনৈতিক সংগঠন বা স্বাধীনতা অর্জন অপরিহার্য নয়। পক্ষান্তরে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এবং স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী একটি জনসমাজ।
২. মূর্ত ও বিমূর্ত রূপ: জাতীয়তা একটি বিমূর্ত ধারণা বা অনুভূতি; অন্যদিকে জাতি হলো একটি মূর্ত ও সুসংগঠিত বাস্তব রূপ। অর্থাৎ, জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমাজ যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করে তখন তা জাতিতে পরিণত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয়তাবোধ মূলত মানুষের মধ্যকার একাত্মতার অনুভূতি। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল অভিন্ন মাতৃভাষা বাংলা এবং হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম তাদের ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করে। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে চাপিয়ে দিয়ে এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে দমন করে যে বৈষম্য তৈরি করেছিল, তার বিরুদ্ধে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্যই বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। এই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যই পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষা ও সাংস্কৃতিক উপাদান ছাড়া জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ও অবিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক সীমারেখায় দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করার ফলে জনগণের মধ্যে এক গভীর মমত্ববোধ ও ঐক্যের সৃষ্টি হয়, যা জাতীয়তাবাদ গঠনে সহায়ক।
২. বংশগত বা নৃতাত্ত্বিক ঐক্য: একই রক্ত বা নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুভূতি মানুষের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে, যা জাতীয়তাবোধকে তীব্র করে।
৩. ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ঐক্য: একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের গৌরবময় অতীত, সংগ্রাম, ত্যাগ এবং স্বাধীনতা অর্জনের যৌথ ইতিহাস তাদের ঐক্যের সূত্রে বাঁধে। একই রাজনৈতিক আদর্শ ও শাসনব্যবস্থার অধীন থাকাও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে।
৪. অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা মানুষকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
৫. ধর্মীয় ঐক্য: ধর্ম মানুষের অন্যতম শক্তিশালী অনুভূতির একটি। বহু ক্ষেত্রে অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান জাতীয়তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সুতরাং, কেবল ভাষা ও সংস্কৃতিই নয়, বরং ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অভিন্নতাও একটি জনসমাজকে জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও