‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন যেমন দুরূহ প্রক্রিয়া, স্বাধীনতা রক্ষা করা ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। 'আইন' স্বাধীনতার শর্ত এবং প্রধান রক্ষাকবচ। আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে। স্বাধীনতা রক্ষার্থে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকাও একান্ত প্রয়োজন।

  1. ক)

    সাম্য কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনের সাথে নৈতিকতার দুটো পার্থক্য দেখাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে স্বাধীনতার কোন কোন রক্ষাকবচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রক্ষাকবচ ব্যতীত স্বাধীনতার অন্যান্য রক্ষাকবচসমূহ বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ অর্থে সাম্য বলতে সমাজে সকলের সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং কোনো প্রকার বিশেষ অধিকারের অনুপস্থিতিকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন ও নৈতিকতার মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
    ১. বাধ্যবাধকতা ও শাস্তি: আইন রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত ও বাধ্যতামূলক, আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। পক্ষান্তরে, নৈতিকতা ব্যক্তির বিবেকের বিষয়, এটি লঙ্ঘনে কোনো আইনি শাস্তি নেই, কেবল সামাজিক অনুশোচনা বা বিবেক দংশন হতে পারে।
    ২. পরিধি ও প্রকৃতি: আইন মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষের অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও বাহ্যিক আচরণ উভয়কেই প্রভাবিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বাধীনতার দুটি প্রধান রক্ষাকবচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
    ১. আইন: আইন স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ। জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।" উদ্দীপকে বলা হয়েছে আইন স্বাধীনতার শর্ত ও ভোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। আইন নাগরিকদের সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে অন্যের অধিকার রক্ষায় সহায়তা করে।
    ২. সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ: সংবিধানে মৌলিক অধিকার স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকলে সরকার বা কোনো কর্তৃপক্ষ সহজে নাগরিকদের অধিকার হরণ করতে পারে না। উদ্দীপকে নাগরিকদের স্বাধীনতা রক্ষার্থে মৌলিক অধিকারসমূহ সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আইন' ও 'মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ' ছাড়াও স্বাধীনতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. গণতন্ত্রের চর্চা: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত থাকে, যা নাগরিকদের স্বাধীনতা সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে।
    ২. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: সরকারের আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ যদি পরস্পর থেকে স্বাধীন থাকে, তবে কোনো বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং নাগরিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
    ৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া ব্যক্তি-স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়। বিচার বিভাগ আইনের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে।
    ৪. আইনের শাসন: আইনের চোখে সবাই সমান এবং বিনা বিচারে কাউকে আটক না করার নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকরা নির্ভয়ে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে।
    ৫. জাগ্রত জনমত: নাগরিকদের সজাগ সচেতনতা ও প্রতিবাদী মনোভাবই স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ। অধ্যাপক ল্যাস্কির মতে, "চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূল্য।"
    ৬. প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক মাধ্যম ও অবাধ গণমাধ্যম: তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকদের অধিকার সচেতন করে।

    পরিশেষে, কেবল আইন বা সংবিধানে অধিকার লিপিবদ্ধ থাকাই যথেষ্ট নয়, উপরোক্ত রক্ষাকবচগুলোর সমন্বিত উপস্থিতিই প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন