‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

অং সান সূচীকে মিয়ানমারের সামরিক সরকার দীর্ঘদিন নিজ গৃহে অন্তরীণ করে রেখেছিল। তাঁকে যে শুধু রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে দেয়নি তা নয়, অনেক সামাজিক অধিকার ভোগের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল। সূচী এখন মুক্ত এবং তিনি মিয়ানমারের জনগণের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দেন।

  1. ক)

    মানবাধিকারের রক্ষক কে?

    (1)
  2. খ)

    কর্তব্য কী?

    (2)
  3. গ)

    অংসান সূচীকে সামরিক সরকার যেসব অধিকার ভোগ করা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল, সেগুলো কী কী?

    (3)
  4. ঘ)

    কেন অং সান সূচী মিয়ানমারের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দেন।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবাধিকারের প্রধান রক্ষক হলো রাষ্ট্র (তথা রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন ও বিচার বিভাগ) এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিকার ভোগের বিনিময়ে সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে আইনগত, নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব বা কাজ সম্পাদন করতে হয়, তাকে কর্তব্য বলে। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত; অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অং সান সূচীকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দীর্ঘদিন নিজ গৃহে অন্তরীণ করে রেখে মৌলিক মানবাধিকারসহ বহু অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। সে অধিকারগুলো হলো:

    ১. ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার: তাঁকে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।
    ২. রাজনৈতিক অধিকার: তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দল পরিচালনা, মতামত ও মতাদর্শ প্রচার এবং রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
    ৩. সামাজিক ও নাগরিক অধিকার: পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বাইরের সাধারণ মানুষের সাথে মুক্তভাবে যোগাযোগ ও সামাজিক মেলামেশা করার অধিকার খর্ব করা হয়েছিল।
    ৪. বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা: স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে কথা বলা এবং সেন্সরশিপ ছাড়া মত প্রকাশের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অং সান সূচী মিয়ানমারের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, কারণ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক।

    সামরিক বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা জোরপূর্বক দখল করা হয় এবং জনগণের মৌলিক অধিকার পদদলিত হয়। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায়, সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকায় সূচীসহ সাধারণ জনগণ তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সেখানে কোনো আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না।

    পক্ষান্তরে, একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়:
    ১. জনগণের মৌলিক মানবাধিকার সংবিধানে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত থাকে।
    ২. সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
    ৩. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, যার ফলে কোনো নাগরিকের অধিকার অন্যায়ভাবে খর্ব করা যায় না।
    ৪. বাক-স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত থাকে।

    অতএব, দীর্ঘ বন্দিজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে অং সান সূচী উপলব্ধি করেছিলেন যে, সামরিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে জনগণের অধিকার স্থায়ী ও অর্থপূর্ণভাবে সুরক্ষিত হতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন