ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুলতান নিজামুল হক একটি দেশের রাজা। প্রায় প্রতি বছরই তিনি অন্য দেশে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতি বছরই তিনি জয়লাভ করে প্রচুর ধন-সম্পদসহনিজ রাজ্যে ফিরে আসেন। এসব ধন-সম্পদ দ্বারা তিনি তার রাজধানীকে প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত করেন।
- ক)(1)
'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
- খ)(2)
আল-বিরুনির পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুলতানের অভিযানের সাথে তোমার পাঠ্যবিষয়ের কোন সুলতানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার সুদূরপ্রসারী ফলাফলবিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শাহনামা' মহাকাব্যের রচয়িতা হলেন পারস্যের বিখ্যাত কবি ফেরদৌসী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবু রায়হান আল-বিরুনি ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত, বহুশাস্ত্রবিদ, ভূগোলবিদ, গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি সুলতান মাহমুদের দরবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ন ছিলেন এবং মাহমুদের ভারত অভিযানের সময় ভারতে এসে সেখানকার ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও দর্শন গভীরভাবে অধ্যয়ন করে তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল হিন্দ' (তারিখুল হিন্দ) রচনা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতান নিজামুল হকের অভিযানের সাথে পাঠ্যপুস্তকের গজনির সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট সতেরো বার ভারত উপমহাদেশে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি প্রতিটি অভিযানেই বিজয়ী হয়ে প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন এবং সেগুলো নিয়ে নিজ রাজধানী গজনীতে ফিরে যান। এসব অর্জিত বিপুল সম্পদ দ্বারা তিনি গজনিকে মনোরম প্রাসাদ, মসজিদ, পাঠাগার ও মাদ্রাসায় সুশোভিত করে তৎকালীন প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে রূপান্তরিত করেন। উদ্দীপকের সুলতান নিজামুল হকও প্রতি বছর অন্য দেশে অভিযান চালিয়ে বিপুল ধন-সম্পদ জয় করে নিজ রাজধানীতে ফিরে আসেন এবং তা দিয়ে রাজধানীকে প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরী হিসেবে গড়ে তোলেন। সুতরাং, সুলতান নিজামুল হকের কর্মকাণ্ড সুলতান মাহমুদের কাজের সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল অপরিসীম।
রাজনৈতিক দিক থেকে সুলতান মাহমুদ ভারতের রাজনৈতিক অনৈক্য ও রাজপূত শক্তির দুর্বলতা উন্মোচন করেছিলেন। তিনি ভারতে স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করলেও পাঞ্জাব অঞ্চল গজনির সাম্রাজ্যভুক্ত করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই অভিযানের ফলে পরবর্তীকালে মুহাম্মদ ঘুরির স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছিল।
অর্থনৈতিকভাবে এই অভিযানের ফলে ভারতের বহু মন্দির ও রাজ্যের সঞ্চিত বিপুল ধন-সম্পদ গজনীতে স্থানান্তরিত হয়, যার মাধ্যমে গজনি একটি সমৃদ্ধশালী ও জমকালো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে মাহমুদের অভিযানের ফলে ভারতীয় ও ইসলামি সংস্কৃতির মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের সূচনা হয়। তাঁর সাথে ভারতে আসা সুফি-সাধক ও আল-বিরুনির মতো পণ্ডিতদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার ও ভারতীয় বিদ্যার সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের পরিচয় ঘটে। পরিশেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদের অভিযান ভারতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও