ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখে পালন করা হয়?
- খ)(2)
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি ইতিহাসের কোন ঘটনাকেনির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতারবীজ নিহিত ছিল-বিশ্লেষণ,করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায়ে এবং ভাষা আন্দোলনকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত পরিষদকে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ বলা হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন নূরুল হক ভূঁইয়া। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ' পুনর্গঠিত হয়। এই পরিষদ ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও চূড়ান্ত বিজয়ে নেতৃত্ব দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং শহীদ মিনারের স্মৃতিবাহী ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ছাত্র-জনতা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করছে। তাদের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে স্পষ্টভাবে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' লেখা রয়েছে, যা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবির প্রতীক।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রাজপথে নেমে আসে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে শহীদ মিনার গড়ে ওঠে এবং ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সোপান তৈরি করে। অতএব, উদ্দীপকের চিত্রটি ঐতিহাসিক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকেই সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের মধ্যেই যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল— উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পূর্ব বাংলার মানুষ শুরু থেকেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার শিকার হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালালে বাঙালিরা তা মেনে নেয়নি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার রক্তদানের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা বুঝতে পারে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাদের সংস্কৃতি, অস্তিত্ব ও অধিকার সুরক্ষিত নয়।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই ধর্মাশ্রয়ী পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর উন্মেষ ঘটে। এই চেতনাই পরবর্তীতে স্বাধিকার ও মুক্তির মূল শক্তিতে পরিণত হয়। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালির বিপুল বিজয় অর্জিত হয়। পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, উক্ত ঘটনার মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও