ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সর্বধর্ম মতবাদের প্রবক্তা শ্রী আনন্দ স্বামী। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার কালিস্থ গ্রামে এক কৌলীন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদারের দায়িত্ব পালনকালে প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও আন্তঃধর্মবিবাদ তাকে চিন্তামগ্ন করে তোলে। ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্ট ধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করতে সক্রিয় হন। তার এ সর্বধর্ম মতবাদে প্রকৃত মানবতার আহ্বান থাকলেও তিনি ধর্মভীরু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। তবে এর মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
'মনসব' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে কোন মুঘল সম্রাটের নীতির সাদৃশ্য পাওয়া উক্ত নীতির মতবাদসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা স্থান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর (বৈরাম খানের অভিভাবকত্বে) এবং আফগান সেনাপতি হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দিল্লির সিংহাসন পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে হিমু বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। যুদ্ধে প্রথম দিকে হিমুর বাহিনী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও হিমুর চোখে হঠাৎ একটি তীর বিদ্ধ হলে তিনি জ্ঞান হারান। নেতার পতনে আফগান বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুঘলরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর মতবাদের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত ধর্মাদর্শ 'দীন-ই-ইলাহী'র সাদৃশ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধর্মের বিবাদ ও বৈষম্য দূর করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫৮২ সালে সম্রাট আকবর ইসলাম, হিন্দু, জৈন, খ্রিষ্ট ও জরথুস্ত্র ধর্মের সারবস্তু গ্রহণ করে 'দীন-ই-ইলাহী' বা 'তাওহিদ-ই-ইলাহী' প্রবর্তন করেন। এই মতবাদের মূল দিকগুলো হলো: একত্ববাদে বিশ্বাস এবং সম্রাটকে আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে নেওয়া, অহিংসা ও পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা করা, রক্তপাত পরিহার এবং প্রাণিহত্যা যথাসম্ভব বর্জন করা, সত্যবাদিতা, নম্রতা ও উদারতা অনুশীলন করা এবং সূর্যের আলো ও অগ্নিকে স্রষ্টার শক্তির প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা করা। উদ্দীপকের আনন্দ স্বামীর 'সর্বধর্ম' মতবাদের মতো আকবরের দীন-ই-ইলাহীও মূলত একটি সমন্বয়বাদী নীতি ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহী বা 'সুলহ-ই-কুল' (সবার জন্য শান্তি) নীতি মুঘল ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আকবর বুঝতে পেরেছিলেন যে, একটি বহু-ধর্মীয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ উপমহাদেশে কেবল শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সমন্বয়। এই নীতির অন্যতম তাৎপর্য হলো রাজনৈতিক সংহতি অর্জন। ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রজাদের একটি জাতীয় ঐক্যের সূত্রে বাঁধতে এবং রাজপুতসহ হিন্দু সম্প্রদায়কে সাম্রাজ্যের বিশ্বস্ত অংশীদারে পরিণত করতে এই নীতি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া এটি ধর্মীয় গোঁড়ামিমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার পথ প্রশস্ত করে। যদিও গোঁড়া মুসলিম ও হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিকরা এই মতবাদকে ভালো চোখে দেখেননি এবং সাধারণ মানুষ এটি বিপুলভাবে গ্রহণ করেনি (আকবরের মৃত্যুর পরই এটি বিলুপ্ত হয়), তবুও ভারতজুড়ে উদার ধর্মনিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরিতে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও