ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশের জনগণের মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অস্বীকার এবং সামরিক বেসামরিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়। এমতাবস্থায় উক্ত প্রদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালিয়ে যান।
- ক)(1)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে পালন করা হয়?
- খ)(2)
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সঙ্গো তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রদেশের বৈষম্যের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো-।
- ঘ)(4)
উক্ত বৈষম্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন এবং বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলা হয়। ছাত্রসমাজের ১১ দফা ও ঐতিহাসিক ৬ দফার ভিত্তিতে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গড়ে ওঠা এই তীব্র গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দি মুক্তি পান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের পাকিস্তান আমলের পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা) প্রদেশের প্রতি বৈষম্যের মিল রয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল ছিল পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ ও অগণতান্ত্রিক আচরণ করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন হরণ এবং সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন ও অর্থনৈতিক খাতে চরম বৈষম্য তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রের সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়, মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বৈষম্য চালানো হয়। অতএব, উদ্দীপকের বর্ণিত প্রদেশটির দুর্দশার সাথে পাকিস্তান শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের প্রতি পরিচালিত বৈষম্যের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত বৈষম্যের মূল কারণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক মানসিকতা, জাতিগত আধিপত্য টিকিয়ে রাখার লিপ্সা এবং অর্থনৈতিক শোষণ প্রক্রিয়া।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তা, আমলা ও পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তারা পূর্ব পাকিস্তানকে সম-অধিকারসম্পন্ন একটি প্রদেশ হিসেবে না দেখে একটি শোষিত উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করত। নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে স্তব্ধ করে দেয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাট ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। এছাড়া সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনেও বাঙালিদের যথাযথ নিয়োগ না দিয়ে একচেটিয়া পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিয়োগ দেওয়া হতো, যাতে বাঙালিরা কখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারে।
পরিশেষে বলা যায়, বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দমন করে রাখা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করাই ছিল এই সুদূরপ্রসারী বৈষম্যের মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও