সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

এই উপমহাদেশে সমাজচিন্তার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। অর্থশাস্ত্র, আইন-ই-আকবরি, আকবরনামা এসব গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য চিন্তাবিদের অবদান বিষয়টি বাংলাদেশে একটি পৃথক জানকাণ্ড হিসেবে বিকশিত হয়। বর্তমানে এদেশের ঐতিহ্য, পরিবার ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শছুরে সমাজ সম্পর্কে জানতে এই বিষয়টি সাহায্য করে। জনসংখ্যা সমস্যা,অপরাধ প্রবণতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে এই বিষয়ের জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থের লেখক কে?

    (1)
  2. খ)

    সাহিত্য কীভাবে প্রত্নতত্ত্বের উৎস? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বর্ণনায় বিবৃত বিষয়টির পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকেবিষয়টির প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থের লেখক বদরুদ্দীন উমর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাচীন সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবজীবনের প্রামাণ্য চিত্র ফুটে ওঠে বলে সাহিত্য প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

    প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ, মহাকাব্য, ভ্রমণবৃত্তান্ত ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্যে প্রাচীন জনপদের ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক রীতিনীতি, রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং স্থাপত্যের বিবরণ পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এসব সাহিত্যিক বর্ণনার সূত্র ধরে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, নগরী বা ঐতিহাসিক স্থানের সন্ধান পান এবং খননকার্য পরিচালনা করেন। এভাবেই সাহিত্য প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার প্রত্যক্ষ উপাদান হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বর্ণনায় বাংলাদেশে 'সমাজবিজ্ঞান' বিষয়ের উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কিত ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার আগে প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন দার্শনিক ও ঐতিহাসিক রচনায় সমাজচিন্তার প্রকাশ ঘটেছিল। কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরি' প্রভৃতি গ্রন্থে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে সমাজচিন্তা আরও প্রসার লাভ করে।

    বাংলাদেশে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের নেতৃত্বে এবং ইউনেস্কোর সহযোগিতায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে বহু বছরের সামাজিক চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার পথ ধরে এদেশে সমাজবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র জ্ঞানকাণ্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের সামগ্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমাজবিজ্ঞান পাঠ ও চর্চার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সমাজ ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান: বাংলাদেশের আবহমান গ্রাম ও দ্রুত রূপান্তরশীল শহরের সমাজকাঠামো, পরিবার ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যথাযথভাবে বুঝতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।

    ২. সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান: দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা, অপরাধপ্রবণতা, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের মতো জটিল সমস্যাগুলোর উৎস শনাক্ত করতে সমাজবিজ্ঞান বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রদান করে।

    ৩. নীতি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণ: উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধান ও জনকল্যাণমুখী জাতীয় নীতি নির্ধারণে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার উপাত্ত রাষ্ট্র ও নীতি-নির্ধারকদের কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

    ৪. সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন মূল্যায়ন: আধুনিকায়ন ও নগরায়ণের ফলে মানুষের জীবনধারা ও মানসিকতায় যে রূপান্তর ঘটছে, তা মূল্যায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।

    সুতরাং, সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সামাজিক সংকট মোকাবিলা এবং একটি প্রগতিশীল জাতি গঠনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমাজবিজ্ঞান পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন