সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' বাংলাদেশে বসবাসরত একটি 'ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের ক্ষমতা কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তরকে বলা হয় আদাম বা পাড়া এবং সর্বোচ্চ স্তরকে বলা হয় সার্কেল। যার প্রধান রাজা। অপরদিকে 'খ' ময়মনসিংহ 'অঞ্চলে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের পরিবারের প্রধান হলো মাতা। মায়ের কাছ থেকেই এরা বংশ পরিচয় ও সম্পত্তি লাভ করে।
- ক)(1)
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কাকে বলে?
- খ)(2)
চাকমাদের বিবাহরীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা কাঠামো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'খ' নৃ-গোষ্ঠী অপরাপর নৃ-গোষ্ঠী থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতিতে পৃথক ও অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাকমাদের সমাজে অন্তর্গোত্র বা একই বংশমর্যাদার মধ্যে বিবাহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চাকমা বিবাহ সাধারণত পিতৃতান্ত্রিক ধারায় সম্পন্ন হয় এবং বিয়ের পর কনে বরের গৃহে বসবাস করে। তাদের সমাজে অভিভাবকের সম্মতিতে সামাজিক বিবাহ ছাড়াও পাত্র-পাত্রীর পছন্দ অনুযায়ী পালিয়ে বিয়ের (লাভ ম্যারেজ) প্রচলন রয়েছে, যা পরে সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা ও অর্থদণ্ডের মাধ্যমে সমাজ স্বীকৃতি দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নৃ-গোষ্ঠীটি হলো চাকমা। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতা কাঠামো মূলত তিন স্তরে বিন্যস্ত:
১. আদাম বা পাড়া স্তর: চাকমাদের ক্ষমতা কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর হলো আদাম বা পাড়া। প্রতিটি আদামের একজন প্রধান থাকেন, যাঁকে বলা হয় 'কার্বারি'। কার্বারি পাড়ার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ছোটখাটো সামাজিক বিবাদের মীমাংসা করেন।
২. মৌজা স্তর: কয়েকটি আদাম বা পাড়া নিয়ে গঠিত হয় একটি মৌজা। মৌজার প্রশাসনিক প্রধানকে বলা হয় 'হেডম্যান'। হেডম্যান রাজস্ব আদায়, ভূমির ব্যবস্থাপনা ও মৌজার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তদারকি করেন।
৩. সার্কেল স্তর: চাকমা সমাজের ক্ষমতা কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর হলো সার্কেল। চাকমা সার্কেলের সর্বোচ্চ প্রধান হলেন 'চাকমা রাজা'। রাজা পুরো সার্কেলের প্রধান হিসেবে হেডম্যান ও কার্বারিদের নিয়োগ ও সামাজিক বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসা করেন এবং সরকারের সাথে কর ব্যবস্থার সংযোগ রক্ষা করেন। এভাবে চাকমাদের একটি সুসংগঠিত ক্ষমতা কাঠামো রয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'খ' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীটি হলো গারো নৃ-গোষ্ঠী। বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পিতৃতান্ত্রিক হলেও গারোরা মাতৃতান্ত্রিক হওয়ায় তারা অপরাপর নৃ-গোষ্ঠী থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা: গারো সমাজের মূল ভিত্তি হলো মাতৃতন্ত্র। পরিবারে মাতার ভূমিকাই প্রধান এবং পারিবারিক যাবতীয় কর্তৃত্ব মায়ের হাতে থাকে।
২. মাতৃসূত্রীয় বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকার: গারো সমাজে সন্তানরা মায়ের বংশ বা দলের (চাত্তি) পরিচয়ে পরিচিত হয়। বংশপরম্পরায় পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায় কন্যারা, বিশেষ করে পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা যাকে 'নোকনা' বলা হয়। পুত্রসন্তানরা সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না।
৩. বৈবাহিক রীতি ও বাসস্থান: বিয়ের পর গারো সমাজে বরকে কনের বাড়িতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হয় (ঘরজামাই প্রথা)। এটি পিতৃতান্ত্রিক নৃ-গোষ্ঠীগুলোর (যেমন: চাকমা, মারমা, সাঁওতাল) রীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
৪. সমাজ কাঠামো: সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পুরুষরা মাতুল বা মামার ভূমিকায় সিদ্ধান্তমূলক সহযোগিতা করলেও সামগ্রিক সামাজিক সম্মান ও উত্তরাধিকার মায়ের দিক থেকেই নির্ধারিত হয়।সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশের অন্যান্য প্রায় সকল নৃ-গোষ্ঠী যেখানে পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতার পরিচয়ে পরিচালিত হয়, সেখানে গারোরা তাদের মাতৃসূত্রীয় পারিবারিক ও সামাজিক নিয়মের কারণে স্পষ্টভাবে ভিন্ন ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও