সমাজকর্ম ২য় পত্র • বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর উদ্যোগে একটি সংস্থা গড়ে উঠে। সংস্থাটি বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আইনি সহায়তাসহ নানা ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
- ক)(1)
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থার ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি বলতে সাধারণত সমাজের দরিদ্র, ভূমিহীন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য কোনো প্রকার স্থাবর সম্পত্তি বা জামানত ছাড়া স্বল্প পরিসরে প্রদত্ত সহজ শর্তের ঋণ প্রদানকে বোঝায়।
এ ঋণের উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মানুষ যেন কোনো আয়বর্ধক ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কুটির শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ করে দারিদ্র্য দূর করতে পারে। ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি হলো 'ব্র্যাক' (BRAC - Building Resources Across Communities / পূর্বে Bangladesh Rural Advancement Committee)।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি সুনামগঞ্জের শাল্লা অঞ্চলে শরণার্থী পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে সংস্থাটি টেকসই সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে স্যার ফজলে হাসান আবেদের উদ্যোগে সংস্থাটি গড়ে ওঠে এবং বর্তমানে এটি ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কর্মপরিধি ব্র্যাক-এর সাথেই হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি হলো ব্র্যাক (BRAC)। বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ব্র্যাক-এর ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও প্রশংসনীয়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণ: ব্র্যাক গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক এবং অতিদরিদ্র নারীদের জামানতহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে আয়বর্ধক কাজের সুযোগ তৈরি করেছে, যা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
২. শিক্ষা কর্মসূচি: অবহেলিত ও ঝরে পড়া শিশুদের জন্য ব্র্যাকের 'অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি' এবং ব্র্যাক স্কুলের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
৩. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা: ব্র্যাকের 'স্বাস্থ্যকর্মী' (শাশিক) মডেলের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষা, ডায়রিয়া নিরাময়ে খাওয়ার স্যালাইনের প্রচার, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে ব্র্যাক অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।
৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও আইনি সহায়তা: ব্র্যাক আইনি সচেতনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে। পারিবারিক সহিংসতা রোধ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তা প্রদান করে সংস্থাটি নারীদের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।
৫. সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্র্যাকের তৎপরতা অগ্রগণ্য।পরিশেষে বলা যায়, ব্র্যাক কেবল একটি এনজিও নয়, বরং এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৃণমূল মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে অপরিসীম অবদান রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও