ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার এমন একটি নিয়ম প্রচলন করেন, যাতে কোন শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর বিচার শ্বেতাঙ্গ বিচারক করতে পারতেন না। নেলসন ম্যান্ডেলা ক্ষমতায় এসে এ ব্যবস্থা বাতিল করায় যে কোন অশ্বেতাঙ্গ জজ শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারতেন।
- ক)(1)
আলী ভ্রাতৃদ্বয় কারা?
- খ)(2)
অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়টি তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংস্কার কাজ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আলী ভ্রাতৃদ্বয় হলেন ভারতের খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দুই নেতা—মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় ও নিপীড়নমূলক নীতির বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে সূচিত অহিংস গণআন্দোলনই হলো অসহযোগ আন্দোলন। রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং খিলাফত প্রশ্নের অন্যায়ের প্রতিবাদে ব্রিটিশদের সঙ্গে সব ধরনের প্রশাসনিক, বিচার বিভাগীয় ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বর্জন এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের লর্ড রিপনের আমলে প্রণীত 'ইলবার্ট বিল' বিতর্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভারতে ১৮৮৩ সালের পূর্বে কোনো ভারতীয় বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট ইউরোপীয় বা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার এখতিয়ার রাখতেন না, যা বিচার ব্যবস্থায় চরম বর্ণবৈষম্যের পরিচায়ক ছিল। আইন পরিষদের তৎকালীন আইন সদস্য সি পি ইলবার্ট লর্ড রিপনের নির্দেশে একটি বিল উত্থাপন করেন, যা 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদেরও শ্বেতাঙ্গদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগীয় বৈষম্য দূর করা।
উদ্দীপকে যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ আইনের অবসান ঘটিয়ে অশ্বেতাঙ্গ বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচারের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তেমনি ইলবার্ট বিলের লক্ষ্যও ছিল ভারতীয় দেশীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচার করার সম-অধিকার নিশ্চিত করা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তি হলেন ভাইসরয় লর্ড রিপন। ভারতে ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে তিনি তাঁর প্রগতিশীল ও উদারনৈতিক সংস্কারমূলক কাজের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও স্মরণীয়।
লর্ড রিপনের উল্লেখযোগ্য সংস্কার কাজসমূহ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে 'স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন' পাস করেন। গ্রাম ও শহরের স্থানীয় প্রশাসনকে জনগণের প্রতিনিধির নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ইউনিয়ন ও জেলা বোর্ড গঠিত হয়। এজন্য তাঁকে 'ভারতে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক' বলা হয়।
২. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: ১৮৭৮ সালে লর্ড লিটন ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোর কণ্ঠরোধ করতে যে কঠোর 'ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট' প্রণয়ন করেছিলেন, লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তা বাতিল করে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা পুনর্বহাল করেন।
৩. শিক্ষা সংস্কার: ১৮৮২ সালে তিনি উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 'হান্টার শিক্ষা কমিশন' গঠন করেন। এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
৪. ইলবার্ট বিল ও বিচার সংস্কার: ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গদের বিচারের অধিকার দিতে তিনি ইলবার্ট বিল উত্থাপন করে প্রশাসনিক ও বিচারিক সমতা আনার সাহসী পদক্ষেপ নেন (যদিও ইউরোপীয়দের তীব্র বিরোধিতায় এটি আংশিক সংশোধিত হয়)।
৫. শ্রম সংস্কার: ১৮৮১ সালে তিনি প্রথম 'কারখানা আইন' (Factory Act) প্রণয়ন করে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ ও শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করেন।
সুতরাং, লর্ড রিপনের সংস্কারসমূহ ভারতীয়দের রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও