ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
রসুলপুর স্কুলে প্রতিবছর সাহিত্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ। মেলায় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের স্বরচিত কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ পাঠ করে।। বিচারকমণ্ডলী কর্তৃক নির্বাচিত লেখকগণকে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং তাদের লেখনীসমূহ সুন্দর হস্তাক্ষরে দেয়াল পত্রিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।। অতঃপর উক্ত দেয়াল পত্রিকা স্কুলের লাইব্রেরিতে প্রদর্শনের জন্য রাখা। হয়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত হয়। এতে। অনেক কবি-সাহিত্যিকের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে।
- ক)(1)
প্রাচীন আরবে গোত্রপ্রধানদের কী বলা হতো?
- খ)(2)
'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাহিত্য মেলার সাথে প্রাচীন আরবের কোন মেলার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সাহিত্য চর্চায় উক্ত মেলার অবদান নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাচীন আরবে গোত্রপ্রধানদের 'শেখ' বলা হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইয়ামে জাহেলিয়া' একটি আরবি পরিভাষা, যার অর্থ 'অন্ধকার যুগ' বা 'অজ্ঞতার যুগ'।
ঐতিহাসিকদের মতে, মহানবি (সা.)-এর নবুওয়ত লাভের পূর্ববর্তী প্রায় এক শতাব্দী কালকে আরবের ইতিহাসে 'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলা হয়। এ যুগে আরব সমাজে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার ছিল না; মানুষ মারামারি, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ-বিগ্রহ, মদ্যপান, জুয়া, সুদ এবং কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো বর্বর ও অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে চরম অধঃপতনের কারণে এই যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাহিত্য মেলার সাথে প্রাচীন আরবের বিখ্যাত 'উকাজ মেলা'র সাদৃশ্য রয়েছে।
ইসলাম-পূর্ব আরবে জিলকদ মাসে মক্কার অদূরে তায়েফের নিকটবর্তী উকাজ নামক স্থানে প্রতিবছর একটি বাৎসরিক মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এটি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল না, বরং তা ছিল সাহিত্য, কবিতা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রধান মিলনমেলা। সেখানে তৎকালীন আরবের সেরা কবিগণ তাঁদের রচিত স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতেন। বিচারকমণ্ডলী সেরা কবিতাগুলো নির্বাচন করতেন এবং সম্মানস্বরূপ সেগুলো স্বর্ণাক্ষরে মিসরীয় কাপড়ে লিখে পবিত্র কাবাঘরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা 'মুআল্লাকাত' বা ঝুলন্ত গীতিকবিতা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের রসুলপুর স্কুলের সাহিত্য মেলাতেও ছাত্র-ছাত্রীরা স্বরচিত কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ পাঠ করে এবং বিচারকদের দ্বারা নির্বাচিত লেখনীগুলো সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখে লাইব্রেরিতে দেয়াল পত্রিকায় প্রদর্শন করা হয়। এই সাহিত্য প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচিত কবিতা জনসম্মুখে প্রদর্শনের প্রক্রিয়ার সাথে প্রাচীন আরবের উকাজ মেলার কবিতা আবৃত্তি ও কাবাঘরে ঝুলিয়ে রাখার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে প্রাচীন আরবে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উকাজ মেলার অবদান ছিল অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা অন্যান্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও তাদের ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছিল অতুলনীয়। আরবের কাব্য ও সাহিত্যের এই অসাধারণ বিকাশে উকাজ মেলা জাতীয় সাহিত্য একাডেমি হিসেবে কাজ করেছিল। এই মেলায় আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইমরুল কায়েস, জুহাইর, তারাফা, লাবিদ, অন্তরা প্রমুখ বিখ্যাত কবি সমবেত হতেন। তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা, ছন্দ এবং শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্কুলে নিয়মিত সাহিত্য মেলা আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য চর্চার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং অনেক কবি-সাহিত্যিকের উদ্ভব ঘটে। ঠিক একইভাবে, উকাজ মেলা ছিল আরবের উদীয়মান কবি ও সাহিত্যিকদের প্রতিভা প্রকাশের প্রধান ক্ষেত্র। সেরা কবিতাগুলো 'সাবআ মুআল্লাকাত' বা সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা হিসেবে কাবা শরিফে টাঙিয়ে কবিদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হতো। এর ফলে আরবদের মধ্যে কাব্যচর্চায় সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠত এবং আরবি সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়েছিল।
সুতরাং বলা যায়, উকাজ মেলা প্রাচীন আরবে সাহিত্য চর্চার বিকাশ, ভাষার লালন এবং প্রতিভাবান কবিদের আত্মপ্রকাশে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও