ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

গাজান খান পারস্যের ইলখানি শাসকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি ইলখানি বংশের এক সংকটময় মুহূর্তে সিংহাসনে বসেন। স্বীয় প্রতিভা, সাহস, দক্ষতা ও সাংগঠনিক শক্তিবলে তিনি পারস্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করেন। যে সমস্ত বিদ্রোহ ও বিশৃন্সলা সাম্রাজ্যের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল, তিনি সেগুলো কঠোর হয়ে দমন করে আসন্ন বিপদের হাত থেকে ইলখানি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। এজন্য তাকে ইলখানি সাম্রাজ্যের 'রক্ষাকারী' বলে অভিহিত করা হয়

  1. ক)

    গনিমত কী?

    (1)
  2. খ)

    'মজলিশ-উস-শুরা' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গাজান খানের সাথে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উত্ত খলিফার কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া যে ধন-সম্পদ মুসলিম বাহিনীর হস্তগত হতো, তাকে 'গনিমত' বা গনিমতের মাল বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মজলিশ-উস-শুরা' হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসন আমলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গঠিত পরামর্শ সভা বা উপদেষ্টা পরিষদ। মহানবি (সা.) এবং পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীনের খলিফাগণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, সামাজিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। এ পরামর্শভিত্তিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপই ছিল মজলিশ-উস-শুরা, যা ইসলামী শাসনব্যবস্থার গণতান্ত্রিক চরিত্র প্রকাশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গাজান খানের সাথে খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর মিল রয়েছে।

    মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহ যখন ভণ্ড নবিদের আবির্ভাব, যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি এবং ধর্মত্যাগীদের (রিদ্দা) বিদ্রোহের ফলে চরম সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছিল, তখন হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন। তিনি তাঁর অটল বিশ্বাস, অসীম সাহস, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। এজন্য ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি তাঁকে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' (Saviour of Islam) বলে অভিহিত করেছেন।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত গাজান খানও ইলখানি সাম্রাজ্যের সংকটময় মুহূর্তে সিংহাসনে আরোহণ করে স্বীয় দক্ষতা ও সাংগঠনিক শক্তিবলে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করে সাম্রাজ্য রক্ষা করেন এবং 'রক্ষাকারী' উপাধিতে ভূষিত হন। এই উদ্ধারকারী ও রক্ষাকারী ভূমিকার কারণেই গাজান খানের সাথে হযরত আবু বকর (রা.)-এর গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে হযরত আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য।

    হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের চরম বিপদের সময়ের কান্ডারি। মহানবি (সা.)-এর মৃত্যুর পর আরব ভূখণ্ডে রিদ্দা আন্দোলন বা ধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ শুরু হয়। তুলায়হা, মুসায়লামা, সাজাহ ও আসওয়াদ আনসির মতো ভণ্ড নবিরা ইসলাম ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে উদ্যত হয়েছিল। এছাড়া কিছু গোত্র কেন্দ্রীয় কোষাগারে যাকাত দিতে অস্বীকার করে। এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে আবু বকর (রা.) কোনো প্রকার আপস না করে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-সহ অন্যান্য সেনাপতিদের মাধ্যমে রিদ্দার যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং কঠোর হস্তে বিদ্রোহ দমন করেন। ফলে ইসলামি খেলাফতের সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

    বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি তিনি পবিত্র কুরআন সংকলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অপরিবর্তিত কুরআন সংরক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ শান্তি ফিরিয়ে এনে তিনি পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তে অভিযান প্রেরণ করে ইসলামি বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করেন।

    উদ্দীপকে যেমন গাজান খানের দৃঢ় পদক্ষেপে ধ্বংসোন্মুখ ইলখানি সাম্রাজ্য রক্ষা পেয়েছিল, তেমনি হযরত আবু বকর (রা.)-এর অদম্য নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় নবোদ্ভূত ইসলামি রাষ্ট্র চিরতরে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়। সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষায় আবু বকর (রা.)-এর অবদান ছিল অবিসংবাদিত ও চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন