ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক রাষ্ট্রের জয়, পরাজয়, পতনের পিছনে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ইতিহাস সার্বভৌম রাষ্ট্রকে পরাধীনতার না পাসে নিমজ্জিত করেছে। ভারতবর্ষের ইতিহাস ও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়।
- ক)(1)
পর্তুগিজ নাবিকের নাম কি?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রেক্ষাপট তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার ফলাফল তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতবর্ষে আগমনকারী বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিকের নাম ভাস্কো দা গামা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ কর্তৃক বাংলায় প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা হলো এক অভিনব শাসনব্যবস্থা, যেখানে ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পূর্ণ পৃথক করা হয়। এতে রাজস্ব আদায় ও সামরিক শক্তির মতো প্রকৃত প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত হয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে, আর কোনো অর্থ বা ক্ষমতা ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও বিচার পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষমতাহীন দেশীয় নবাবের ওপর। এর ফলে নবাব হন ক্ষমতাহীন দায়িত্বশীল আর কোম্পানি হয় দায়িত্বহীন ক্ষমতার অধিকারী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রেক্ষাপটটি পাঠ্যপুস্তকের ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ' এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎ শেঠ প্রমুখের গভীর ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সুসজ্জিত ও বিশাল নবাব বাহিনী থাকা সত্ত্বেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের মূল কারণ ছিল মীর জাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, যার কারণে নবাবের স্বাধীনতা হারায়।
উদ্দীপকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, ইতিহাসের বহু রাষ্ট্রের পতনের পেছনে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস রয়েছে যা সার্বভৌম রাষ্ট্রকে পরাধীন করে। ঠিক একইভাবে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমেই বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয় এবং সমগ্র ভারতবর্ষ প্রায় দুইশত বছরের জন্য ব্রিটিশ পরাধীনতার নাগপাশে নিমজ্জিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক একটি অধ্যায়।
প্রথমত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পলাশীর যুদ্ধের ফলে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের পতন ঘটে এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় একচ্ছত্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে। মীর জাফর ও মীর কাসিমকে পুতুল নবাব হিসেবে বসিয়ে কোম্পানি পরোক্ষভাবে শাসন চালাতে থাকে এবং একপর্যায়ে ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে পূর্ণ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোম্পানি অবাধ লুণ্ঠন ও সম্পদ পাচার শুরু করে, যাকে 'পলাশী লুণ্ঠন' (Plassy Plunder) বলা হয়। দেশীয় হস্তশিল্প, বিশেষ করে মসলিন ও তাঁত শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং কৃষক ও তাঁতিদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন শুরু হয়। কোম্পানির নির্বিচার শোষণ ও অতিরিক্ত করের ফলেই পরবর্তীতে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয়, যাতে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয় এবং একটি সমৃদ্ধ ও সম্পদশালী দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ও দীর্ঘ পরাধীনতার কবলে নিমজ্জিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও