সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ছক-ক | ছক-খ
বিহারে ১৭৭টি আবাসিক কক্ষ স্নানঘাট পোড়ামাটির ফলক খলিফা হারুন-অর-রশীদের আমলের মুদ্রা | সোজা ও প্রশস্ত রাস্তাসড়কবাতি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থানগর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শস্যাগার

  1. ক)

    আনন্দ বিহারের নির্মাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    শালবন বিহার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ছক-'ক'-এ বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-'খ'তে বর্ণিত সভ্যতাটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আনন্দ বিহারের নির্মাতা হলেন দেব বংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দদেব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শালবন বিহার হলো বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত একটি বৌদ্ধ মঠ বা শিক্ষাকেন্দ্র ছিল, যার চারপাশ শাল-গজারির বনে ঘেরা ছিল বলে এটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-'ক'-এ বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 'পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার' বা 'সোমপুর মহাবিহার'-এর কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছক-ক-এ ১৭৭টি আবাসিক কক্ষ, স্নানঘাট, পোড়ামাটির ফলক এবং খলিফা হারুন-অর-রশীদের আমলের মুদ্রার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সোমপুর মহাবিহারের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষভাগে এটি নির্মাণ করেন। পাহাড়পুর বিহারের খননকার্যের ফলে চতুষ্কোণাকার বিশাল বিহারটিতে সন্ন্যাসীদের বসবাসের জন্য ১৭৭টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। কেন্দ্রীয় মন্দিরের দেওয়ালে অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা) পাওয়া গেছে যা তৎকালীন লোকজীবনকে ধারণ করে। এ ছাড়া এখানে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের আমলের একটি রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া গেছে, যা তৎকালীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রমাণ দেয়। অতএব, ছক-'ক' পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-'খ'-তে বর্ণিত সভ্যতাটি হলো প্রাচীন 'সিন্ধু সভ্যতা', যা তৎকালীন অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার তুলনায় একটি উন্নত ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সোজা ও প্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নগর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শস্যাগার হলো সিন্ধু সভ্যতার (বিশেষ করে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা নগরীর) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিচে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উন্নত নগর পরিকল্পনা: সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গ্রিড পদ্ধতিতে গড়ে উঠেছিল। রাস্তাগুলো ছিল চওড়া ও সমান্তরাল, যা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করত।
    ২. আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও সড়কবাতি: এই সভ্যতার প্রতিটি বাড়ি থেকে ঢাকনাযুক্ত নর্দমার মাধ্যমে ময়লা পানি মূল নর্দমায় নিষ্কাশিত হতো। রাস্তায় রাতের বেলায় আলোর জন্য সড়কবাতির ব্যবস্থা ছিল, যা তৎকালীন পৃথিবীতে বিরল।
    ৩. প্রতিরক্ষা ও দুর্গ: শহরগুলোতে সাধারণ বসতি থেকে উঁচুতে সুরক্ষিত দুর্গ বা নগর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
    ৪. বিশাল শস্যাগার ও গণস্নানাগার: আপৎকালীন খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হরপ্পায় বিশাল শস্যাগার এবং মহেঞ্জোদারোতে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের জন্য বৃহৎ স্নানাগার নির্মিত হয়েছিল।

    তৎকালীন মেসোপটেমীয় বা মিশরীয় সভ্যতাগুলোতে যেখানে মন্দির ও পিরামিডকেন্দ্রিক স্থাপত্যের প্রাধান্য ছিল, সেখানে সিন্ধু সভ্যতা নাগরিক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন ও গণকল্যাণমূলক স্থাপত্যে নজর দিয়ে একটি অনন্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন