‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কোন ধরনের সরকারব্যবস্থায় গুণের সংখ্যা প্রাধান্য পায়?

    (1)
  2. খ)

    উত্তম সরকারের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

    (2)
  3. গ)

    'গ' চিহ্নিত স্থানের উপযুক্ত বিষয়টি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সুশাসন নিশ্চিতকরণে উক্ত বিষয়টির ভূমিকা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অভিজাততন্ত্রে বা গুণীজনভিত্তিক সরকারব্যবস্থায় গুণের সংখ্যা বা গুণগত মান প্রাধান্য পায়। (তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যার প্রাধান্য থাকে, আবার এরিস্টটলের মতে অভিজাততন্ত্র বা পলিটিতে গুণের প্রতিফলন ঘটে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উত্তম সরকারের দুটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: উত্তম সরকারে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান থাকে এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত হয়।
    ২. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা: উত্তম সরকারের কর্মকাণ্ড সবসময় জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকে এবং সরকার তার যেকোনো কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে অধিকারের দুটি প্রধান রূপের একটি হিসেবে 'মৌলিক অধিকার' দেখানো হয়েছে, সুতরাং 'গ' চিহ্নিত স্থানের উপযুক্ত বিষয়টি হলো 'মানবাধিকার' (Human Rights)।

    মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ মানবসন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণের ফলেই অর্জন করে থাকে। এটি বিশ্বজনীন এবং ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR)-এর মাধ্যমে মানবাধিকারসমূহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।

    মৌলিক অধিকার মূলত কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত হয়, পক্ষান্তরে মানবাধিকার সার্বজনীন এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য। উদ্দীপকের 'গ' চিহ্নিত স্থানটিতে তাই সার্বজনীন মানবাধিকারকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা মানবমর্যাদা রক্ষার ভিত্তি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির (মানবাধিকার) ভূমিকা অপরিসীম।

    সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। মানবাধিকার বাস্তবায়িত না হলে কোনো রাষ্ট্রেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নিম্নে এর ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

    ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: মানবাধিকার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্র আইনের চোখে সবাইকে সমান বিবেচনা করতে বাধ্য হয়। ফলে শাসক বা ক্ষমতাসীনদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়, যা সুশাসনের প্রথম শর্ত।
    ২. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ: মানবাধিকারের অন্যতম শর্ত হলো বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা। নাগরিকরা নির্ভয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারলে সরকারের ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হয়।
    ৩. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার মানবাধিকারেরই অংশ। এই অধিকার নিশ্চিত হলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়।
    ৪. বৈষম্যহীন সমাজ গঠন: মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের সমমর্যাদা নিশ্চিত করে। এর ফলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বা সংখ্যালঘুরা বৈষম্যের শিকার হয় না।

    পরিশেষে বলা যায়, মানবাধিকারের যথাযথ সংরক্ষণ, চর্চা ও নিশ্চয়তার মাধ্যমেই একটি কার্যকর, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন