কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রুহুল আমিনের দুগ্ধ খামারে ৪টি উন্নত জাতের গাভি আছে। গাভিগুলোর গায়ের রং সাদাকালো মিশানো। একদিন সে লক্ষ করল যে, গাভি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। এ বিষয়ে প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এই রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বলে দিলেন।
- ক)(1)
সাইলেজ কী?
- খ)(2)
গবাদিপশু পালনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গাড়িগুলোর জাতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রুহুল আমিনের খামারের রোগটির প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সবুজ ঘাসকে ফুল আসার সময় কেটে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গর্তে বায়ুশূন্য অবস্থায় গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণ করাকে সাইলেজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গবাদিপশু পালন জাতীয় অর্থনীতি এবং মানবজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হিসেবে দুধ ও মাংস সরবরাহ করে। এছাড়া কৃষিকাজে হালচাষ, মাড়াই ও পরিবহনে পশুশক্তি ব্যবহৃত হয়। গবাদিপশুর মলমূত্র থেকে উন্নত মানের জৈব সার ও বায়োগ্যাস পাওয়া যায় এবং চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়ক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গাভিগুলোর গায়ের রং সাদাকালো মিশানো, যা নির্দেশ করে এগুলো 'হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান' (Holstein Friesian) জাতের গাভি।
হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. গায়ের রং: এদের শরীরের বর্ণ সুস্পষ্টভাবে সাদা ও কালো ছোপ ছোপ দাগযুক্ত।
২. শারীরিক গঠন: এই জাতের গরু আকারে বেশ বড়, সুঠাম ও ভারী দেহের হয়ে থাকে। এদের পেছনের অংশ প্রশস্ত এবং ওলান সুগঠিত ও বড়।
৩. দুধ উৎপাদন ক্ষমতা: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দুধ প্রদানকারী জাত। এরা প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ লিটার বা তারও বেশি দুধ দেয়।
৪. শান্ত স্বভাব: এ জাতের পশু স্বভাবগতভাবে শান্ত ও সহজে লালন-পালন উপযোগী হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রুহুল আমিনের গাভিগুলোর খুঁড়িয়ে হাঁটা এবং মুখ দিয়ে লালা পড়ার লক্ষণগুলো ক্ষুরারোগ বা এফএমডি (Foot and Mouth Disease)-এর বহিঃপ্রকাশ। এটি একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
রোগের প্রতিকার:
১. আক্রান্ত পশুর মুখ ও ক্ষুর পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, ফিটকিরি বা সোডা মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
২. মুখের ঘায়ে বোরাক্স গ্লিসারিন বা সোহাগার খই মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিতে হবে।
৩. ক্ষুরের ঘায়ে অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম লাগাতে হবে এবং পোকা যেন না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৪. সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ রোধে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। আক্রান্ত পশুকে নরম ঘাস ও তরল খাবার খেতে দিতে হবে।রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
১. নিয়মিত ও সময়মতো সুস্থ গবাদিপশুকে ক্ষুরারোগের টিকা দিতে হবে।
২. খামারের চারপাশ নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখতে হবে।
৩. আক্রান্ত পশুকে তাৎক্ষণিকভাবে সুস্থ পশু থেকে আলাদা বা পৃথক করে রাখতে হবে।
৪. খামারে বহিরাগত মানুষ ও পশুর অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হবে।অতএব, সঠিক চিকিৎসা ও কার্যকর জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ রোগের ক্ষতি থেকে খামার রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও