কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    সম্পূরক খাদ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    কী কী কারণে মাছ রোগাক্রান্ত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর মধ্যে কোনটি উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের উপযুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ও অধিক উৎপাদনের জন্য পুকুরে উৎপাদিত প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে নিয়মিত যে বাড়তি পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হয়, তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ বিভিন্ন জৈব ও পরিবেশগত কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে থাকে:
    ১. পানির গুণাগুণ নষ্ট হওয়া: পানির তাপমাত্রা, পিএইচ (pH), দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্ষতিকর গ্যাস (যেমন- অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড) সৃষ্টি হলে মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
    ২. পুষ্টির অভাব: খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান না থাকলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
    ৩. রোগজীবাণুর আক্রমণ: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও পরজীবীর সংক্রমণে মাছ রোগাক্রান্ত হয়।
    ৪. অতিরিক্ত মজুদ ঘনত্ব ও আঘাত: পুকুরে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাছ রাখলে এবং জাল টানার সময় আঘাত পেলে রোগজীবাণুর বিস্তার ত্বরান্বিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো গলদা চিংড়ি এবং চিত্র-২ হলো বাগদা চিংড়ি। এদের মধ্যে চিত্র-২ অর্থাৎ বাগদা চিংড়ি উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের জন্য উপযুক্ত।

    উপকূলীয় অঞ্চলের নদী, খাঁড়ি এবং ঘেরগুলোর পানি সাধারণত লোনা বা ঈষৎ লোনা প্রকৃতির হয়ে থাকে। বাগদা চিংড়ি হলো মূলত নোনা পানির প্রজাতি, যা স্বাভাবিকভাবেই উপকূলীয় লোনা পানির পরিবেশে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং টিকে থাকতে পারে। উপকূলের জোয়ার-ভাটার পানি ব্যবহার করে সহজে ও লাভজনকভাবে ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ করা যায়। অন্যদিকে চিত্র-১ বা গলদা চিংড়ি মূলত মিঠা পানির প্রজাতি। যদিও গলদার লার্ভার বিকাশের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার লোনা পানির প্রয়োজন হয়, তবুও এর সার্বিক চাষ মিঠা পানিতেই সফল হয়। তাই উপকূলের বিস্তৃত লোনা পানির পরিবেশ ও ঘের ব্যবস্থাপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় চিত্র-২ এর বাগদা চিংড়ি উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ (গলদা চিংড়ি) এবং চিত্র-২ (বাগদা চিংড়ি) এর মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়:

    ১. আবাসস্থল: চিত্র-১ (গলদা চিংড়ি) প্রধানত মিঠা পানির (পুকুর, বিল, নদী) চিংড়ি। অপরদিকে চিত্র-২ (বাগদা চিংড়ি) প্রধানত সামুদ্রিক ও উপকূলীয় লোনা পানির চিংড়ি।
    ২. দেহের বর্ণ: গলদা চিংড়ির দেহ সাধারণত হালকা সবুজাভ বা নীলাভ রঙের হয়। পক্ষান্তরে, বাগদা চিংড়ির শরীরে বাঘের মতো আড়াআড়ি স্পষ্ট ডোরাকাটা বা কালচে ডোরাকাটা দাগ থাকে।
    ৩. রোস্ট্রাম বা নাসারূপ: গলদা চিংড়ির রোস্ট্রাম বেশ লম্বা, ঢেউখেলানো বা বাঁকানো এবং উপরের দিকে কিছুটা উত্থিত থাকে। অপরদিকে বাগদা চিংড়ির রোস্ট্রাম তুলনামূলকভাবে খাটো, সোজা এবং সামনের দিকে সামান্য খাঁজকাটা থাকে।
    ৪. দ্বিতীয় জোড়া পদ (পা): গলদা চিংড়ির দ্বিতীয় জোড়া চলনপদ অত্যন্ত শক্তিশালী, দীর্ঘ এবং চেলিপেড বা সাঁড়াশির মতো বড় আকৃতির হয় (বিশেষ করে পুরুষ গলদায়)। অন্যদিকে বাগদা চিংড়ির চলনপদ তুলনামূলকভাবে ছোট এবং দ্বিতীয় জোড়া পা গলদার মতো অস্বাভাবিক বড় বা সাঁড়াশির রূপ নেয় না।
    ৫. উদরীয় খোলস বা সেগমেন্ট: গলদা চিংড়ির পেটের দ্বিতীয় খোলসটি প্রথম ও তৃতীয় খোলসকে আংশিক ঢেকে রাখে। বাগদা চিংড়ির ক্ষেত্রে উদরের খোলসগুলো একটির পর একটি স্বাভাবিক ক্রমানুসারে সাজানো থাকে (একটি অপরটির ওপর ওভারল্যাপ করে)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন