কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
লাবু কৃষি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা "কৃষি কথা"-র সদস্য।। এই পত্রিকার একটি প্রতিবেদন পড়ে সে জানতে পারে যে, বর্ষা মৌসুমে বিশেষ এক ধরনের মাঠ ফসল ও মাছের সমন্বিত চাষ করা যায়। যেসব জমিতে পানির স্থায়িত্ব ৩-৪ মাস এবং পানির গভীরতা ১০-১২ সেমি হয়, সেসব জমিতে এই ফসল ও মাছের সমন্বিত চাষ করা যায়। যে মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে জমি তৈরি ও ব্যবস্থাপনার। পরামর্শ গ্রহণ করে বেশ লাভবান হয়।
- ক)(1)
প্লাংকটন কী?
- খ)(2)
মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
লাবুর সমন্বিত চাষ পদ্ধতিটি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমন্বিত চাষ পদ্ধতিটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীবকে প্লাংকটন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ আসে মাছ থেকে। এছাড়া মৎস্য আহরণ, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সাথে দেশের বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাবুর সমন্বিত চাষ পদ্ধতিটি হলো 'ধানক্ষেতে মাছ চাষ'।
সমন্বিত চাষ পদ্ধতি বলতে একই জমিতে একই সাথে বা পর্যায়ক্রমে একাধিক ফসল ও জলজ প্রাণীর লাভজনক চাষকে বোঝায়। ধানক্ষেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ধরে রেখে ধানের পাশাপাশি লাভজনক মাছের চাষ করাই হলো ধানক্ষেতে মাছ চাষ।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, বর্ষা মৌসুমে যেসব জমিতে ৩-৪ মাস পানি জমে থাকে এবং পানির গভীরতা ১০-১২ সেমি হয়, সেখানে বিশেষ এক মাঠ ফসলের সাথে মাছের সমন্বিত চাষ করা যায়। কৃষি বিজ্ঞান অনুযায়ী, নিচু বা মাঝারি নিচু জমিতে যেখানে বর্ষাকালে নির্দিষ্ট সময় পানি জমে থাকে, সেখানে আমন বা আউশ ধানের সাথে রুই, কাতলা, মৃগেল বা নাইলোটিকা মাছের সমন্বিত চাষ করা যায়। লাবু মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে ঠিক এই সমন্বিত পদ্ধতিতেই চাষাবাদ করে লাভবান হয়েছেন। সুতরাং, পদ্ধতিটি হলো ধানক্ষেতে মাছের সমন্বিত চাষ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধানক্ষেতে মাছ চাষ পদ্ধতিটি একটি অত্যন্ত টেকসই এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি—উক্তিটি যথার্থ।
উক্ত সমন্বিত চাষ পদ্ধতির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও লাভজনক হওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জমির সর্বোচ্চ ও দ্বিমুখী ব্যবহার: একই জমি থেকে একই সাথে ধান ও মাছ দুটি পৃথক ফসল পাওয়া যায়, ফলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
২. উৎপাদন খরচ হ্রাস: মাছ ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও শ্যাওলা খেয়ে ফেলে, যা ধানের রোগবালাই কমাতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।
৩. সারের সাশ্রয়: মাছের বিষ্ঠা ধানক্ষেতের মাটিকে উর্বর করে জৈব সারের জোগান দেয়। এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের খরচ অনেকাংশে কমে যায়।
৪. ধানের ফলন বৃদ্ধি: মাছের চলাচলের ফলে ধানক্ষেতের পানির উপরিভাগ ও তলদেশের বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়, যা ধানের শিকড়ের বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক ফলন বাড়াতে সহায়তা করে।
৫. পুষ্টি ও অতিরিক্ত আয়: কৃষক পরিবার সহজেই তাদের আমিষের চাহিদা মেটাতে পারে এবং উদ্বৃত্ত মাছ ও ধান বাজারে বিক্রি করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, অল্প খরচ ও পরিশ্রমে একই জমি থেকে বহুমুখী উৎপাদন পাওয়ার কারণে ধান ও মাছের এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতিটি অত্যন্ত লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও