কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
সাঈদ ও সুমন দুই বন্ধু। সাঈদের হাঁস পালন পদ্ধতি হলো- রাতে হাঁসগুলো ঘরে থাকে এবং দিনের বেলায় ঘরের পাশে একটি পুকুরে বিচরণ করে। কিন্তু সুমন হাঁসগুলোকে সারাদিনের জন্য সকাল ১০টার দিকে ছেড়ে দেয় এবং রাতে ঘরে আবদ্ধ রাখে। সে হাঁসগুলোকে কোনো খাবার দেয় না।
- ক)(1)
ইনকিউবেটর কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশে পোস্ট্রির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুমনের হাঁস পালন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাঈদ ও সুমন দু'বন্ধুর মধ্যে কার হাঁস পালন পদ্ধতিটি বেন্দি উপযোগী? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ বজায় রেখে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়, তাকে ইনকিউবেটর বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে পোল্ট্রি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাংস ও ডিমের সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী উৎস হলো পোল্ট্রি। এটি প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক যুবসমাজ, নারী ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া পোল্ট্রির বিষ্ঠা উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে এবং মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুমনের হাঁস পালন পদ্ধতিটি হলো মুক্ত চারণ পদ্ধতি বা উন্মুক্ত পদ্ধতি (Scavenging system/Extensive system)।
এই পদ্ধতিতে হাঁসকে কোনো নির্দিষ্ট কৃত্রিম সম্পূরক খাদ্য প্রদান করা হয় না। সুমন সকাল ১০টার দিকে হাঁসগুলোকে বাইরে উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে (যেমন- নদী, খাল-বিল, নালা, ধানি জমি ইত্যাদি) ছেড়ে দেয়। হাঁসগুলো সারাদিন প্রাকৃতিক উৎস থেকে শামুক, ঝিনুক, ছোট মাছ, জলজ পোকা-মাকড়, শ্যাওলা ও শস্যদানা ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরপর সন্ধ্যার সময় হাঁসগুলোকে আবার ঘরে এনে আবদ্ধ রাখা হয়। এ পদ্ধতিতে খামারির কোনো খাবার খরচ না থাকায় উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত কম হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাঈদ ও সুমন দুই বন্ধুর মধ্যে সাঈদের হাঁস পালন পদ্ধতিটি বেশি উপযোগী ও লাভজনক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাঈদ অর্ধ-উন্মুক্ত বা অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করে, যেখানে হাঁসগুলো রাতে ঘরে থাকে এবং দিনের বেলা ঘরের পাশের পুকুরে চরে বেড়ায়। অপরদিকে, সুমন পুরোপুরি উন্মুক্ত চারণ পদ্ধতি অনুসরণ করে হাঁসকে কোনো ধরনের খাবার দেয় না।
সাঈদের পদ্ধতিটি বেশি উপযোগী হওয়ার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. নিয়মিত পুষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি: শুধু প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল রাখলে হাঁস প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান নাও পেতে পারে। সাঈদের পদ্ধতিতে পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সম্পূরক খাদ্য প্রদান করা সহজ হয়, ফলে ডিম ও মাংসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।
২. নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যবেক্ষণ: ঘরের পাশের পুকুরে থাকায় হাঁসগুলো সবসময় নজরদারিতে থাকে। ফলে চোর, শিয়াল, বেজি বা অন্যান্য শিকারী প্রাণীর হাত থেকে হাঁস সুরক্ষিত থাকে।
৩. রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ: উন্মুক্ত অবস্থায় বহুদূরে গেলে হাঁস দূষিত পানি বা বাইরের অসুস্থ পাখির সংস্পর্শে এসে রোগাক্রান্ত হতে পারে। সাঈদের পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পুকুরে রাখার ফলে রোগজীবাণুর সংক্রমণ সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৪. ডিম নষ্ট হওয়া রোধ: সারাদিন দূরদূরান্তে উন্মুক্ত থাকলে অনেক সময় হাঁস ঝোপঝাড়ে বা পানিতে ডিম পেড়ে নষ্ট করে। সাঈদের পদ্ধতিতে হাঁস সহজে নির্দিষ্ট স্থানে ডিম দেয়।অতএব, তুলনামূলক কম ঝুঁকি, অধিক উৎপাদন এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বিবেচনা করলে সাঈদের হাঁস পালন পদ্ধতিটিই অধিক উপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও