কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
মেধাবী ছাত্র মানিক লাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে। মানিক লাল তার এলাকার প্রান্তিক চাষিদের নিয়ে একটি "কৃষি উন্নয়ন সংঘ" গড়ে তোলে, যেখানে। সকলেই সকলের তরে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে" এর ভিত্তিতে। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কাজ করবে। মানিক লালের এ উদ্যোগটি। গ্রহণের পর ঐ বছরটিতে তারা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো। ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়।
- ক)(1)
কৃষিঋণ কী?
- খ)(2)
কৃষি উন্নয়নে শস্য পর্যায়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে কৃষি উন্নয়ন সংঘটির নীতিমালা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে মানিক লালের উদ্যোগটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিকাজ পরিচালনা এবং কৃষি উৎপাদনের যাবতীয় উপকরণ কেনার সুবিধার্থে কৃষকদের যে স্বল্প, মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঋণ প্রদান করা হয় তাকে কৃষিঋণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে ধারাবাহিকভাবে একই ফসল চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফসল পর্যায়ক্রমিকভাবে চাষ করার পদ্ধতিকে শস্য পর্যায় বলে। এর ফলে মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান ব্যবহৃত হয় এবং মাটির উর্বরতা অক্ষুণ্ণ থাকে। বিশেষ করে শিমজাতীয় ফসল চাষের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শস্য পর্যায় রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ চক্র ভেঙে ফেলে ফসলের ফলন বাড়াতে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মানিক লালের গড়ে তোলা 'কৃষি উন্নয়ন সংঘ'টি সমবায়ভিত্তিক কৃষি সংগঠনের নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত। "সকলেই সকলের তরে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"— এই মূলমন্ত্রটি সমবায়ের মৌলিক নীতিকে নির্দেশ করে।
সংঘটির প্রধান নীতিমালা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা: ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং একে অপরের সহযোগিতায় উৎপাদন কার্য পরিচালনা করা।
২. স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্র: প্রান্তিক কৃষকরা স্বেচ্ছায় এই সংঘে যুক্ত হয়ে সমঅধিকার ও গণতান্ত্রিক মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
৩. সাম্য ও ন্যায্যতা: সংঘের প্রতিটি সদস্যের সমান গুরুত্ব থাকবে এবং অর্জিত সুফল বা ফসলের লাভ ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টিত হবে।
৪. আত্মনির্ভরশীলতা: সমবেত শক্তি ও স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়ন এবং ফলন বৃদ্ধিতে মানিক লালের গৃহীত সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগটি অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের কৃষিতে প্রান্তিক কৃষকরা প্রায়ই পুঁজির অভাব, উন্নত প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং দালালের শোষণের শিকার হন। মানিক লাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত আধুনিক কৃষিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক চাষিদের সংঘবদ্ধ করেছেন। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা: এককভাবে প্রান্তিক কৃষকের পক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত বীজ কেনা সম্ভব না হলেও সংঘের মাধ্যমে যৌথভাবে তা সংগ্রহ ও ব্যবহার সহজ হয়।
২. যৌথ উৎপাদন ও ব্যয় সংকোচন: সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ফলে চাষের খরচ কমে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
৩. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সংঘবদ্ধভাবে ফসল বাজারজাত করার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর হয় এবং কৃষকরা উপযুক্ত দাম পান।
৪. কৃষি পরামর্শ ও সচেতনতা: মানিক লালের মতো শিক্ষিত তরুণের নেতৃত্বে কৃষকরা সুষম সার ব্যবহার, উন্নত শস্য নির্বাচন ও রোগবালাই দমনে আধুনিক পদ্ধতি শিখতে পারছে।অতএব, গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও