‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রিফাত এন্ড সন্স গার্মেন্টস কারখানাটি দীর্ঘদিন যাবত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এর ফলে একপর্যায়ে কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং বিদ্রোহ দেখা দেয়। এর ফলে কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে বাতিল করে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করে।

  1. ক)

    বাংলায় নবাবি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    লর্ড রিপন কেন বিখ্যাত?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্তৃপক্ষের সাথে পাঠ্য পুস্তকের কার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ব্যবস্থা কি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এনেছিল? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলায় স্বাধীন নবাবি বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মুর্শিদকুলি খান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড রিপন ভারতে তাঁর উদারনৈতিক ও প্রজাহিতৈষী সংস্কারের জন্য বিখ্যাত। তিনি ১৮৮২ সালে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন প্রণয়ন করেন, ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, ইলবার্ট বিল প্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় সমতা আনতে সচেষ্ট হন এবং শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে হান্টার কমিশন গঠন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্তৃপক্ষের সাথে পাঠ্যপুস্তকের ব্রিটিশ সরকার তথা রানি ভিক্টোরিয়ার ভারত শাসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৮৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দীর্ঘদিনের শোষণ ও অন্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভারতে এক ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহ তথা মহাবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। উদ্দীপকের কারখানায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অসন্তোষ ও বিদ্রোহ ঠিক তেমনই কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর বিদ্রোহের প্রতীক।

    সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বুঝতে পারে যে একটি বাণিজ্যিক কোম্পানির হাতে বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব আর নিরাপদ নয়। ফলে ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজ/রানি ভিক্টোরিয়া কোম্পানির শাসন অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার সরাসরি নিজ হাতে তুলে নেন। উদ্দীপকে যেমন শ্রমিক বিদ্রোহের পর কর্তৃপক্ষ পূর্বের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বাতিল করে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে, ঠিক তেমনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার সরাসরি নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক ভারতের প্রত্যক্ষ শাসন গ্রহণ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও স্থায়িত্ব এনেছিল।

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে অপশাসন, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক শোষণ এবং বৈষম্যের কারণে শাসনব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল এবং যার চরম পরিণতি ছিল ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ। ১৮৫৮ সালে ১ নভেম্বর মহারানি ভিক্টোরিয়া এক ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের সরাসরি শাসনভার গ্রহণ করেন। এর ফলে দ্বৈত শাসনের বিভ্রান্তি দূর হয়।

    এই পরিবর্তনের ফলে ভারতে গভর্নর জেনারেলের পদটি 'ভাইসরয়' পদে রূপান্তরিত হয় এবং ইংল্যান্ডে 'ভারত সচিব' (Secretary of State for India) ও ১৫ সদস্যের ইন্ডিয়া কাউন্সিল গঠন করে কেন্দ্রীভূত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়। মহারানির ঘোষণাপত্রে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, দেশীয় রাজাদের অভ্যন্তরীণ অধিকার সংরক্ষণ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ভারতীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা দেশবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত করে।

    যদিও এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল এবং শোষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও প্রশাসনিক দিক থেকে এটি এক সমন্বিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সুতরাং, উক্ত ব্যবস্থা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে কার্যকর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন