‍ইতিহাস ২য় পত্র • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি গ্রামের জমিদার পুত্র পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে বেড়াতে গেলে সেখানে সস্ত্রীক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় এক অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সংঘর্ষের রূপ পরিগ্রহ করে।

  1. ক)

    উড্রো উইলসন কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বাস্তিল দুর্গ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনাই বিশ্বব্যাপী একটি যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে। বিবেচিত। তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উড্রো উইলসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্রের) ২৮তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাস্তিল দুর্গ ছিল ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক দুর্গ ও কারাগার, যা ছিল বুরবোঁ রাজাদের স্বৈরাচার ও নিপীড়নের প্রতীক। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফরাসি বিপ্লবীরা এ দুর্গটি আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেন, যা ফরাসি বিপ্লবের সূচনার এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ তথা অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্দ ও তাঁর স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের (সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড) সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সোফি বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভো সফরে গেলে সেখানে সার্ব সন্ত্রাসী সংগঠন 'ব্ল্যাক হ্যান্ড'-এর সদস্য গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ কর্তৃক সস্ত্রীক নিহত হন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, এক জমিদার পুত্র সস্ত্রীক পাশের গ্রামে বেড়াতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যাপক অস্থিরতা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সুতরাং, এই ঘটনাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করা অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্দের সেরাজেভো হত্যাকাণ্ডের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত ঘটনাটি (সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড) বিশ্বব্যাপী একটি যুদ্ধের অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে বিবেচিত— উক্তিটি যথার্থ।

    ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফার্ডিনান্দ ও তাঁর স্ত্রী সেরাজেভো শহরে এক সার্বীয় চরমপন্থীর গুলিতে নিহত হন। অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামসহ এক চরমপত্র দেয়। সার্বিয়া অধিকাংশ শর্ত মেনে নিলেও অস্ট্রিয়া সন্তুষ্ট না হয়ে ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে পূর্বে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক জোট সক্রিয় হয়ে ওঠে। সার্বিয়ার সমর্থনে রাশিয়া সেনা সমাবেশ করে; অন্যদিকে জার্মানি অস্ট্রিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে রাশিয়া ও পরে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় এবং একে একে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বযুদ্ধ রূপ পরিগ্রহ করে।

    যদিও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সামরিক জোটবদ্ধতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্নিহিত কারণ ছিল, কিন্তু ফার্ডিনান্দের সস্ত্রীক হত্যাকাণ্ডই বারুদপূর্ণ ইউরোপে অগ্নস্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেয়। সুতরাং, এ ঘটনাটিই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন