‍ইতিহাস ২য় পত্র • হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

চাপিয়ে দেয়া একটি চুক্তির মাধ্যমে মর্যাদা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইউরোপের একটি শক্তিধর দেশ বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের সূচনা করে। কিন্তু যুদ্ধে রাষ্ট্রটি পূর্বের ন্যায় পরাজিত হয় এবং শাস্তিস্বরূপ দেশটিকে বিভক্ত করে অন্যান্য দেশ তার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। পরে অবশ্য একত্রীকরণের মাধ্যমে বিভক্ত দেশটি। পুনরায় একত্রিত হয়।

  1. ক)

    ফ্যাটম্যান কী?

    (1)
  2. খ)

    ভাইমার প্রজাতন্ত্র কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত দেশের তৎকালীন শাসকের শেষ পরিণতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফ্যাটম্যান' (Fat Man) হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাপানের নাগাসাকি শহরে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার সাংকেতিক নাম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং কায়জার দ্বিতীয় উইলিয়ামের পদত্যাগের পর ১৯১৯ সালে জার্মানির ভাইমার শহরে জাতীয় পরিষদ কর্তৃক একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করে যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তাকে ভাইমার প্রজাতন্ত্র বলা হয়। ১৯৩৩ সালে হিটলারের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে এই প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে (১৯৩৯-১৯৪৫) নির্দেশ করে।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে মিত্রবাহিনী জার্মানির ওপর অপমানজনক ও চরম শাস্তিমূলক 'ভার্সাই চুক্তি' (১৯১৯) চাপিয়ে দেয়। এতে জার্মানির ভূখণ্ড, অর্থনীতি ও সামরিক মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। জার্মানি এই অপমানজনক চুক্তি বাতিল ও প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে এডলফ হিটলারের নেতৃত্বে আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শক্তিধর দেশটি হলো জার্মানি এবং চাপিয়ে দেওয়া চুক্তিটি হলো ভার্সাই চুক্তি। উদ্দীপকের মতো বাস্তব ইতিহাসেও জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয় এবং মিত্রবাহিনী দেশটিকে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে দেশটি পুনরায় একত্রিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত জার্মানির তৎকালীন শাসক ছিলেন এডলফ হিটলার। তাঁর শেষ পরিণতি ছিল অত্যন্ত শোচনীয় ও করুণ।

    হিটলারের উগ্র সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসী নীতির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। যুদ্ধের শুরুর দিকে নাৎসি জার্মানি বিপুল সাফল্য পেলেও পরবর্তীকালে স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে জার্মানির বিপর্যয় শুরু হয়। এরপর মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে জার্মানির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়ে। ১৯৪৫ সালের এপ্রিল নাগাদ সোভিয়েত লাল ফৌজ জার্মানির রাজধানী বার্লিন ঘিরে ফেলে এবং প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়।

    মিত্রবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার লজ্জা এবং চরম পরাজয়ের গ্লানি এড়াতে হিটলার বার্লিনে তাঁর ভূগর্ভস্থ বাংকারে (ফুয়েরারবাংকার) আশ্রয় নেন। সেখানে ১৯৪৫ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। অবশেষে পরাজয় সুনিশ্চিত দেখে ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলার নিজে মাথায় গুলি করে এবং ইভা ব্রাউন সায়ানাইড বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর পর মিত্রবাহিনীর হাত থেকে মৃতদেহ রক্ষা করার জন্য হিটলারের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের মৃতদেহে পেট্রল ঢেলে বাংকারের বাইরে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এভাবেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও স্বৈরাচারী শাসকের অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অপমানজনক পরিসমাপ্তি ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন