ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একজন মুঘল সম্রাটের নামের অর্থ ছিল সৌভাগ্যবান। সম্রাট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি প্রথম জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আফগান নেতা সোলায়মানের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি পিতৃরাজ্যপুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

  1. ক)

    পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    দীন-ই-ইলাহি' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের কোন যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে মুঘল-আফগান যুদ্ধে শেরশাহের সফলতার কারণসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১৫৫৬ সালে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘দীন-ই-ইলাহি’ হলো ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সার্বজনীন সমন্বয়বাদী ধর্মমত বা মতাদর্শ।

    বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু এবং সত্যের সমন্বয়ে আকবর এই মতাদর্শ প্রচার করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রজাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য স্থাপন করে রাজনৈতিক সংহতি সুদৃঢ় করা। এতে একেশ্বরবাদ, অহিংসা এবং পরমতসহিষ্ণুতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের ইতিহাসের চৌসা (১৫৩৯ খ্রি.) ও কনৌজের/বিলগ্রামের (১৫৪০ খ্রি.) যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মুঘল সম্রাটের নামের অর্থ ‘সৌভাগ্যবান’, যা সম্রাট হুমায়ুনকে নির্দেশ করে (হুমায়ুন শব্দের অর্থ সৌভাগ্যবান)। তিনি আফগান শক্তির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে ভারত ত্যাগে বাধ্য হন। ইতিহাসে দেখা যায়, ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধ এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের বা বিলগ্রামের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন আফগান নেতা শেরশাহের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের পর হুমায়ুন সাম্রাজ্য হারিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পারস্যে নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনার সাথে চৌসা ও কনৌজের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল-আফগান যুদ্ধে শেরশাহের সফলতার পেছনে তাঁর অসাধারণ সামরিক প্রতিভা, দূরদর্শিতা এবং হুমায়ুনের কিছু রণকৌশলগত ভুল মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল।

    প্রথমত, শেরশাহ ছিলেন একজন দূরদর্শী, কূটকৌশলী এবং অভিজ্ঞ সেনাপতি। তিনি আফগানদের জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে একটি সুসংগঠিত ও দুর্ধর্ষ বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতেন এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেন।

    দ্বিতীয়ত, চৌসা ও কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহ বর্ষাকাল ও আবহাওয়াকে নিজের অনুকূলে ব্যবহার করেছিলেন। মুঘলদের জলমগ্ন ও অপ্রস্তুত অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ করে তিনি তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। শেরশাহের সুশৃঙ্খল অশ্বারোহী বাহিনী এবং আধুনিক রণকৌশলের কাছে মুঘল বাহিনী পরাস্ত হয়।

    বিপরীতে, সম্রাট হুমায়ুনের সামরিক অসতর্কতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে তাঁর ভাইদের অসহযোগিতা শেরশাহের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। অতএব, শেরশাহের দূরদর্শী নেতৃত্ব, রণকৌশল এবং কঠোর শৃঙ্খলাই তাঁকে মুঘল-আফগান যুদ্ধে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন