ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব ইমরান চৌধুরী দক্ষিণাঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করার জন্য লঞ্চে ত্রাণ সামগ্রী পাঠায়। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা ত্রানবাহী লঞ্চ ছিনতাই করে। অভিযোগ পেশ করার পরও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার হয় নাই। তিনি স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে এর আসু বিচারসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এর যথাযথ জবাব ও ক্ষতিপূরণ লাভে ব্যর্থ হলে তার মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
- ক)(1)
গজনী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
- খ)(2)
তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কেন হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনায় মুসলমানদের কোন অভিযানের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনা কি "নিষ্ফল বিজয়" বলে আখ্যায়িত করা যায়? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দা
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গজনী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলপ্তগীন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ ঘুরির ভারত অভিযানের মুখে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রাধান্য ধরে রাখা এবং মুসলিম আধিপত্য প্রতিহত করার লক্ষ্যে চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বীরাজের নেতৃত্বে তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.) সংঘটিত হয়েছিল।
মুহাম্মদ ঘুরি পাঞ্জাব অধিকার করে দিল্লি ও আজমিরের শাসক পৃথ্বীরাজ চৌহানের সীমান্ত দুর্গ 'তাবারহিন্দ' (ভাটিন্ডা) দখল করেন। এটি পৃথ্বীরাজের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করে। ফলে পৃথ্বীরাজ রাজপুত শক্তির জোট গঠন করে ঘুরিকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেন এবং তরাইন নামক স্থানে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনায় ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের পূর্বাপর পটভূমির চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব ইমরান চৌধুরীর পাঠানো ত্রাণবাহী লঞ্চটি দুর্বৃত্তরা ছিনতাই করে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেও ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে, সিংহলের রাজা উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ এবং ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য আটটি বাণিজ্য জাহাজে করে মূল্যবান উপহারসামগ্রী ও পিতৃহীন মুসলিম পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন। জাহাজগুলো দেবল বন্দরের নিকট পৌঁছালে সিন্ধুর রাজা দাহিরের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত জলদস্যুরা তা লুট করে এবং নারী-শিশুদের বন্দি করে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ রাজা দাহিরের কাছে অপরাধীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। রাজা দাহির জলদস্যুদের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলশ্রুতিতেই ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানে পাঠান। সুতরাং, উদ্দীপকে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণের চিত্রই স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেন-পুলের মতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে "নিষ্ফল বিজয়" (a triumph without results) বলা হলেও সামগ্রিক বিচারে এটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ফল বলা যায় না।
লেন-পুলের যুক্তি অনুযায়ী এটি একটি 'নিষ্ফল বিজয়' ছিল, কারণ:
১. মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিজয়ের পর ভারতে অবিলম্বে কোনো স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২. কাসিমকে খলিফা সুলায়মান কর্তৃক অকালে বন্দি ও হত্যা করায় সিন্ধু ও মুলতানের বাইরে মুসলিম শাসনের আর বিস্তৃতি ঘটেনি।
৩. উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর সিন্ধুর মুসলিম শক্তি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ে এবং মূল খিলাফতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।তবে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিজয় নিষ্ফল ছিল না:
১. সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের স্থায়ী আগমন ঘটে এবং বহু মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
২. আরব ও ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটে। ভারতীয় গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্র আরবরা গ্রহণ করে তা ইউরোপে ছড়িয়ে দেয়।অতএব, সাময়িকভাবে রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত থাকায় ঐতিহাসিকদের চোখে এটি একটি "নিষ্ফল বিজয়" বলে মনে হলেও, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দিক থেকে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক সুদূরপ্রসারী ঘটনা ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও