কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
সুগন্ধি চালের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় পটুয়াখালী জেলারকৃষক আবির অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে তার জমিতে সুগন্ধি ব্রি-৫ ধান চাষ। শুরু করেন। কিন্তু আশানুরূপ ফলন না পেয়ে হতাশ হন। পরবর্তীতে তিনি কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করেন। কৃষি কর্মকর্তা তার জমিটি পরিদর্শন ও মাটি পরীক্ষা করে সতর্কতার সাথে। ফসল নির্বাচনের পাশাপাশি জমিতে প্রচুর জৈব সার ব্যবহার ও ভারী সেচ প্রদানের পরামর্শ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পরামর্শটি গ্রহণ করে অধিক লাভবান হন।
- ক)(1)
কৃষি কী?
- খ)(2)
pH মান কত হলে মাটি ক্ষারীয় হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কৃষক আবিরের জমিতে ফসলের উৎপাদন কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে আবিরের কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি হলো ভূমি কর্ষণ এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর সুষ্ঠু পরিচর্যা ও উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর বিজ্ঞানসম্মত কলাকৌশল ও জীবিকা নির্বাহের উপায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটির pH মান ৭.০-এর বেশি হলে তা ক্ষারীয় মাটি হিসেবে বিবেচিত হয় (সাধারণত ৭.৩ বা ৭.৫-এর ওপরে মাটির ক্ষারত্ব স্পষ্ট হয়)।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) অপেক্ষা হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH-) আধিক্য থাকলে মাটি ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বিশেষ করে মাটিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ক্ষারীয় ধাতুর কার্বনেট বা বাইকার্বনেট লবণের সঞ্চয় বেশি হলে মাটির pH বৃদ্ধি পায় এবং মাটি ক্ষারীয় হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষক আবিরের জমিতে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার মূল কারণ ছিল উপযুক্ত মাটি ও পরিবেশ অনুযায়ী ফসল নির্বাচন না করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আবিরের জমিটি পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানকার মাটিতে দ্রবণীয় লবণের মাত্রা বেশি থাকে। কিন্তু আবির যে ব্রি ধান৫ চাষ করেছিলেন, তা সাধারণ সুগন্ধি জাতের ধান এবং এটি উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা সহনশীল জাত নয়। লবণাক্ত মাটিতে সাধারণ জাতের ফসল চাষ করলে উদ্ভিদ মূলের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে পানি ও পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে না, ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। মাটির লবণাক্ততার বিষয়টি বিবেচনা না করে ফসল নির্বাচন করায় আবিরের জমিতে ফসলের উৎপাদন কম হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষক আবিরের প্রাথমিক অপরিকল্পিত চাষাবাদ এবং পরবর্তীতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালিত আধুনিক ব্যবস্থাপনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ফসল নির্বাচন: আবির শুরুতে মাটির গুণাগুণ বিবেচনা না করে কেবল বাজারমূল্যের লোভে অনুপযুক্ত জাত (ব্রি ধান৫) চাষ করেন, যার ফলে তিনি ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি মাটি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী সঠিক ও পরিবেশোপযোগী ফসল নির্বাচন করেন।
২. মাটির ব্যবস্থাপনা: প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি মাটির লবণাক্ততা নিরসনে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেননি। কিন্তু পরবর্তীতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জমিতে প্রচুর জৈব সার প্রয়োগ করেন। জৈব সার মাটির গঠন উন্নত করে, মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং লবণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমিত করে।
৩. সেচ ব্যবস্থাপনা: উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত মাটিতে ভারী সেচ প্রদান করলে জমে থাকা অতিরিক্ত লবণ মাটির নিচে (রুট জোনের বাইরে) অপসারিত বা লিচিং হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবির ভারী সেচ প্রদান করে মাটির লবণাক্ততা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।
অতএব, আবিরের প্রাথমিক উদ্যোগটি ছিল অসচেতনতা ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। পক্ষান্তরে, পরবর্তীতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ, যার ফলে মাটির সমস্যা দূর হয়ে তিনি অধিক লাভবান হতে পেরেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও