কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    উদ্যান ফসল কী?

    (1)
  2. খ)

    মশলা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি- ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে প্রদর্শিত গাছের ফুল, ফল পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে কীভাবে বুঝবে এবং তার করণীয় কী ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফসলটি চাষ কেন গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত বন্যামুক্ত উঁচু জমিতে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চারদিকে বেড়া দিয়ে যেসব শাকসবজি, ফলমূল, ফুল ও মশলা জাতীয় ফসল চাষ করা হয়, সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মশলা চাষে তুলনামূলকভাবে জমি তৈরি, সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারের খরচ কম হয় এবং অল্প জমিতে স্বল্প পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এছাড়াও মশলা ফসলের বাজারমূল্য এবং চাহিদা সারা বছরই বেশি থাকে। ফলে অন্যান্য প্রচলিত মাঠ ফসলের তুলনায় মশলা চাষে উৎপাদন ব্যয় কম হলেও বাজার থেকে উচ্চ মুনাফা অর্জিত হয়। এজন্য বলা হয় মশলা চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত গাছটি হলো তুলা গাছ। তুলা গাছের ফুল ও ফল (বোল) প্রধানত বোলওয়ার্ম (যেমন: আমেরিকান বোলওয়ার্ম বা চিত্রি বোলওয়ার্ম) পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়।

    আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ (কীভাবে বুঝব):
    ১. পোকার কীড়া কচি ফুল, কুঁড়ি ও ডাঁটায় ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে, যার ফলে ফুল বা কুঁড়ি ঝরে পড়ে।
    ২. কচি বা পূর্ণাঙ্গ ফলের (বোল) গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা যায় এবং ছিদ্রের মুখে পোকার বিষ্ঠা জমে থাকে।
    ৩. আক্রান্ত ফলের ভেতর তুলার আঁশ ও বীজ নষ্ট হয়ে যায়, পচন ধরে এবং অনেক সময় ফল অপরিপক্ব অবস্থায় ফেটে যায় বা শুকিয়ে ঝরে পড়ে।

    আক্রমণ রোধে করণীয়:
    ১. আক্রমণযুক্ত ফুল, কুঁড়ি ও ফল সংগ্রহ করে হাত দিয়ে ধ্বংস করা বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা।
    ২. ফেরোমোন ফাঁদ বা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকার মথ দমন করা।
    ৩. জমিতে ট্রাইকোগ্রামা বা অন্যান্য উপকারী পরজীবী পোকা ছেড়ে জৈবিক দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ৪. আক্রমণ তীব্র হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক (যেমন: সাইপারমেথ্রিন বা কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক) নির্দিষ্ট মাত্রায় স্প্রে করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত ফসলটি হলো তুলা। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্প খাতের প্রেক্ষাপটে তুলা চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হলো তৈরি পোশাক শিল্প (RMG)। এই শিল্পের মূল কাঁচামাল হলো তুলা। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। দেশে তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

    ২. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি: তুলা একটি উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল। ধান বা অন্যান্য মাঠ ফসলের চেয়ে তুলা চাষ করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তুলা উৎপাদন, সংগ্রহ, জিনিং, সুতা কাটা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক।

    ৪. উপজাতের ব্যবহার: তুলা থেকে শুধু আঁশই নয়, এর বীজ থেকে পুষ্টিকর ভোজ্যতেল এবং তেল নিষ্কাশনের পর প্রাপ্ত খৈল উন্নতমানের পশুখাদ্য ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া তুলার শুকনো গাছ ও ডালপালা গ্রামাঞ্চলে ভালো জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে।

    ৫. অনাবাদি জমির ব্যবহার: দেশের তামাক চাষ প্রবণ বা শুষ্ক ও তুলনামূলক কম উর্বর জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    অতএব, বস্ত্র শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলা চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন