কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
- ক)(1)
'স্বরূপকাঠি' কীগের জাত?
- খ)(2)
কুল গাছে প্রুনিং করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফলটি বর্ষাকালে পোকামুক্ত পাওয়ার জন্য তুমি কী কী পদ্ধতি প্রয়োগ করবে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ফলটির চাষ বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে— উক্তিটির সাথে তুমি কি একমত তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'স্বরূপকাঠি' হলো পেয়ারার একটি উন্নত জাত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুল গাছে প্রুনিং বা ডাল ছাঁটাই করা হয় মূলত নতুন ডালপালা গজানো এবং ফলন বৃদ্ধির জন্য। কুল সাধারণত নতুন গজায় এমন শাখায় বেশি ধরে। পুরোনো, রোগাক্রান্ত, শুকনা ও ঘন ডালপালা ছাঁটাই করে দিলে গাছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে, রোগবালাই কম হয় এবং নতুন ও স্বাস্থ্যবান শাখায় প্রচুর পরিমাণে বড় ও উন্নতমানের ফল ধরে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফলটি হলো পেয়ারা। বর্ষাকালে পেয়ারায় মাছি পোকার আক্রমণ বেশি হয়, যা ফলের ভেতরে ডিম পাড়ে এবং কিড়া ফলের ভেতরের অংশ খেয়ে নষ্ট করে। বর্ষাকালে পেয়ারাকে পোকার আক্রমণমুক্ত রাখতে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা যেতে পারে:
১. ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging): পেয়ারা মার্বেল আকারের হলে পলিথিন বা বিশেষ বাটার পেপারের ব্যাগ দিয়ে ফল ঢেকে মুখ বেঁধে দিতে হবে। এটি ফল ছিদ্রকারী মাছি পোকার আক্রমণ রোধে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।
২. সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার: মাছি পোকা দমনের জন্য বাগানে ফেরোমোন ফাঁদ বা বিষটোপ ফাঁদ (যেমন- পাকা মিষ্টি কুমড়া কুচি ও সামান্য কীটনাশকের মিশ্রণ) ব্যবহার করে পুরুষ মাছি পোকা আকৃষ্ট করে মেরে ফেলা যায়।
৩. আক্রান্ত ফল ধ্বংস: পোকা বা মাছি আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে নষ্ট করা উচিত যাতে পোকার বংশবৃদ্ধি রোধ হয়।
৪. জৈব ও নিরাপদ বালাইনাশক প্রয়োগ: প্রয়োজনে অনুমোদিত নিরাপদ কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রায় ফল গঠনের প্রাথমিক অবস্থায় স্প্রে করা যেতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত ফলটি হলো পেয়ারা। 'ফলটির চাষ বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে'— উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
১. পুষ্টিগুণ ও জনপ্রিয়তা: পেয়ারা ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও সুলভ মূল্যের ফল। সব শ্রেণির মানুষের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
২. সারা বছর ফলন: উন্নত জাত যেমন— থাই পেয়ারা, কাজী পেয়ারা, বাউ পেয়ারা ইত্যাদির উদ্ভাবনের ফলে এখন সারা বছরই পেয়ারার ফলন পাওয়া যায়।
৩. অর্থনৈতিক লাভ ও কর্মসংস্থান: পেয়ারা চাষে তুলনামূলক কম খরচে ও কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় বহু বেকার যুবক ও কৃষক এর বাণিজ্যিক চাষে এগিয়ে আসছেন।
৪. মাটির উপযোগীতা ও সহজ পরিচর্যা: বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু পেয়ারা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সহজে যত্ন ও আধুনিক প্রযুক্তির (যেমন ব্যাগিং) মাধ্যমে উচ্চ ফলন ও রোগমুক্ত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ: পেয়ারা থেকে জ্যাম, জেলি ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য তৈরি হচ্ছে এবং স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পেয়ারার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।সুতরাং, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, অর্থনৈতিক লাভ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে দিন দিন পেয়ারার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও